ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্নে নেই ট্রাফিক পুলিশ ও সিগন্যাল বাতি
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ৯৭ কিলোমিটারে গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৬ জন। প্রতিমাসে গড়ে নিহত হয়েছেন ২০ দশমিক পাঁচ জন। এসব দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১১৯টি। তবে মহাসড়কের ইউটার্ন এলাকায় বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ইউটার্নে ট্রাফিক পুলিশ ও সিগন্যাল বাতি নেই। হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. রমিজ খান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অন্তত ১৪টি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্নে নেই ট্রাফিক পুলিশ ও সিগন্যাল বাতি। তাই ইউটার্নগুলো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক মাসে মহাসড়কের পদুয়ার বাজারের একটি ইউটার্নে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ জন। ইউটার্নগুলোর বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ না নিলে মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, অধিকাংশ চালকের সচেতনতা নেই। যাত্রী কিংবা পথচারীদের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন করলেই হবে না। চালকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, লাইসেন্স ও পেশাদারিত্ব থাকতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আইন মেনে চলার প্রায়োগিক শিক্ষা।
হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ২০১৯ সালে ২১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৬ জন নিহত হয়েছে। গাড়ির বেপরোয়া গতি ও চালকদের অসচেতনতার কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড ডিটেক্টর গান ব্যবহারসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে, এরপরও চালকরা গতি নিয়ন্ত্রণে আন্তরিক হচ্ছে না। তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
