দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
গত শত বছরেও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি এই পৃথিবীর।
করোনা ভাইরাস নামে এক মারাত্মক জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন সারা দুনিয়া অবরুদ্ধ প্রায়। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সেই সঙ্গে পৃথিবীর সব প্রান্তে মানুষের নানা রকম নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে এক অভিজ্ঞতা হলো হোম কোয়োরেন্টাইন—স্বেচ্ছায় নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা।
নানা কারণেই দুনিয়ার অনেক ক্রীড়াবিদকে এখন এই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পড়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটসম্যান সাদমান ইসলামও। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন চিকিত্সা করাতে। সেখান থেকে ফেরার পর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের সামাজিকতা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে বাস করছেন ঘরের মধ্যে।
এই বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়েই সাদমান বলছিলেন, ‘খুব বোরিং। এমন অভিজ্ঞতা তো আগে কখনো হয়নি। ইনজুরি হলেও ঘরের বাইরে বের হওয়া যায়, কিন্তু এখন সে উপায়ও নেই। তার পরও সবার স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার কথা ভেবে এটা করতে হবে। উপায় নেই।’
সাদমান বেশ কিছুদিন ধরেই ইনজুরিতে ভুগছিলেন। কবজির চোট নিয়ে খেলেছেনও। কিন্তু দিনকে দিন সেই ব্যথাটা বাড়ছিল। অবশেষে এই মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতেই অস্ত্রোপচার করাতে গিয়েছিলেন কিছুদিন আগে যুব বিশ্বকাপ থেকে ইনজুরি নিয়ে ফিরে আসা মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। আর তাদের সঙ্গে ছিলেন বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী।
অস্ট্রেলিয়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এ দেশ থেকে ফেরামাত্রই এই তিন জনকে কোয়ারেন্টাইনে যেতে বলা হয়েছে। সেটা তিন জনই মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এই সময়টা কেমন কাটছে?
সাদমান বলছিলেন, সময় তার যেন কাটতেই চাইছে না। একটু অবসর পেলে ভালো লাগে; কিন্তু এত অবসর নিতে পারছেন না, ‘টিভি দেখছি, গান শুনছি, সিনেমা দেখছি। কিন্তু এভাবে আর কত দিন ভালো লাগে! এটা ঠিক যে ক্রিকেটের চাপে অনেক দিন বাসায় একটানা সময় কাটানো হয় না। শুরুতে তাই মনে হয়েছিল, এটা ভালোই হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ১৪ দিন অনেক লম্বা সময়।’
অবশ্য এই সময়ের পর কী করবেন, তা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন সাদমান। এই টেস্ট ওপেনারের হাতে এখন ব্যান্ডেজ করা। খুলতে আর কয়েক দিন সময় লাগবে। ব্যান্ডেজ খোলা হলে ১৪ দিন পার করে জিমে যাওয়া শুরু করতে চান। আর চিত্সিক ও ফিজিওর পরামর্শ অনুযায়ী পুনর্বাসনের কাজ শুরু করতে চান। সাদমান বলছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার চিকিত্সকেরা বলেছেন, আট সপ্তাহ পর পুরোপুরি মাঠে ফিরে আসতে পারবেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগের দলবদলে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে নাম লেখিয়েছিলেন। প্রিমিয়ার লিগও আপাতত করোনা আতঙ্কে স্থগিত হয়ে আছে। তাই সাদমানের আশা, প্রিমিয়ার লিগের শেষটায় মাঠে নেমেও পড়তে পারেন।
সময়টা সব দিক থেকেই সাদমানের জন্য হতাশার। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলে ২০১৮ সালে টেস্ট দলে ডাক পেয়েছিলেন। ছয়টি টেস্ট খেলেছেন। তার ব্যাটিং স্টাইল আর রান বলে দিচ্ছিল, জাতীয় দলে তিনি জায়গাটা পাকা করতেই এসেছেন। কিন্তু ইনজুরি তাকে ছিটকে দিয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও ঠাই পাননি।
তার পরও হতাশ নন সাদমান। এটাকেও জীবনের একটা অংশ বলে মেনে নিয়েছেন। বলছিলেন, ‘ক্রিকেটারের জীবনে এমন হতেই পারে। ইনজুরি আসবে, মাঠের বাইরে যেতে হবে; এগুলো স্বাভাবিক। এ নিয়ে হতাশ না হয়ে আমি বরং সামনে ভালো কী করতে পারি, সেটা নিয়ে ভাবি।’
