স্পোর্টস ডেস্ক
দেশে ফিরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম ভাঙায় রিয়াল মাদ্রিদের সার্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুকা জভিচ বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরে অবশ্য ক্ষমাও চেয়েছেন চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই স্ট্রাইকার।
করোনা ভাইরাসের কারণে লা লিগা আপাতত স্থগিত। জভিচ এই অবসরে ক্লাবের অনুমতি নিয়ে নিজ দেশ সার্বিয়ায় ফিরেছিলেন ক্লাবের অনুমতি নিয়ে। তবে ফিরেই বাধালেন বিপত্তি। দেশে নামার পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন না মেনেই চলে যান বেলগ্রেডে, প্রেমিকার জন্মদিন পালন করতে।
আর তাতেই বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনা ব্রানাবিচ জভিচের আচরণে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের ফুটবল তারকারা নেতিবাচক উদাহরণ দাঁড় করাচ্ছেন। তারা অনেক অর্থ উপার্জন করেন, কিন্তু দেশে ফিরলে বাধ্যতামূলক স্বেচ্ছা নির্বাসনের নির্দেশ এড়িয়ে যান।’
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলেকসান্দার ভুসিচ তো আরেক কাঠি সরেস। রিয়াল স্ট্রাইকারকে দিয়ে বসেন গ্রেফতারের হুমকিই! ভুসিচের ভাষ্য, ‘সে যদি তার ঘর ছেড়ে বেরোয়, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। আমার মনে হয় তার কাজের জন্য সে নিজে লজ্জিত? কিন্তু তাকে একটা ব্যাপারে পরিষ্কার করে দিতে চাই আমি। আর তা হচ্ছে, তার অঢেল অর্থের চেয়ে আমাদের মানুষগুলোর প্রাণ আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
জভিচও এ ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে জানালেন, মূল সমস্যাটা বাঁধিয়েছিল নির্দেশক দল! রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের ভাষ্য, ‘প্রথমত আমি দুঃখিত। কেননা, শেষ কিছুদিনে আমাকে নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। মাদ্রিদে আমার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছিল। আর এ কারণেই লোকজনকে সাহায্য করতে, পরিবারের পাশে থাকতে ক্লাবের অনুমতি নিয়ে সার্বিয়ায় এসেছিলাম। সার্বিয়ায় আসার পর পরীক্ষার ফলও নেগেটিভই এসেছিল। আমি দুঃখিত, কারণ কিছু মানুষ তাদের কাজটা পেশাদারিত্বের সঙ্গে করেনি। নির্বাসনে কী করে আচরণ করতে হয়, সেটার সঠিক নির্দেশনাটা আমাকে দেয়নি।’
তিনি আরো জানান, স্পেন আর সার্বিয়ায় নির্বাসনের নিয়মে ভিন্নতাই মূলত প্রধান সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে। স্পেনে খাবার কিংবা কোনো ওষুধপত্র কিনতে বাইরে যাওয়া যায়, কিন্তু সার্বিয়ায় এ নিয়মটা নেই, যার ফলে কোয়ারেন্টাইন ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে প্রেমিকার জন্মদিনের পার্টিতে উপস্থিতির অভিযোগ উড়িয়ে দেন তিনি।
পুরো ইউরোপ জুড়েই এখন চলছে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। ইতালির পর স্পেন কিংবা ফ্রান্স—কোনো দেশই আর বাকি নেই।
