ডিএনসিসিতে ১০ ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্প ফের শুরু

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ২১:৩৬

সাত রাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত নির্মাণ হবে এসব ইউটার্ন

নিলয় মামুন

রাজধানীর যানজট নিরসনে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে উত্তরা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর এ প্রকল্পটি থেমে যায়। তবে ফের শুরু হয়েছে এর কাজ।  এবার ১১টি নয়, ১০টি ইউটার্ন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে উত্তরার জসীমউদ্দীন, রাজলক্ষ্মী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। কাওলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কে আরেকটি ইউটার্নের নির্মাণ কাজ চলমান। এবার সংশোধিত প্রকল্পে বনানী ফ্লাইওভারের নিচে, বনানী-কাকলী রেলস্টেশন, চেয়ারম্যানবাড়ী, মহাখালী ফ্লাইওভার, মহাখালী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল এবং কোহিনূর কেমিক্যালস থেকে সাতরাস্তা ইন্টারসেকশনসহ মোট সাতটি স্থানে ইউটার্ন নির্মাণ করা হবে। শুধু আর্মি গলফ ক্লাবের সামনের ইউটার্ন নির্মাণের পরিকল্পনাটি সংশোধিত প্রকল্পে বাদ দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথম ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগের বাধায় ঐ নির্মাণ কাজ থেমে যায়। এখন পর্যন্তু দুইটি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শেষ এবং অন্য আরেকটির শেষের পথে। ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, শুরুতে ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের জন্য ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংশোধিত প্রকল্পে ১০টির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পরিকল্পনা থেকে একটি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ বাদ গেলেও আগের থেকে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রকল্পের সংশোধিত মোট ব্যয়ের মধ্যে ২৫ কোটি ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আসবে সরকারি কোষাগার থেকে। বাকি ৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ১৯ হাজার টাকার জোগান আসবে ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে। গত ২৬ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশন থেকে সংশোধিত এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডিএনসিসি কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রস্তাব অনুসারে, প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন অনুমোদন পেতেই লেগে যায় দুই বছরের বেশি। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। সংশোধিত প্রকল্পে মেয়াদ ২০২১ সাল করা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী ইউটার্ন নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক, নালা ও ফুটপাত সংস্কারের জন্য ২২ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া সীমানা দেওয়াল, নালা, গ্যারেজ ও টিনশেড অপসারণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ডেসকো, ওয়াসা, বিটিসিএল, তিতাস ও অন্যান্য পরিসেবার সংযোগ স্থানান্তর ও অপসারণ বাবদ ১ কোটি ৯১ লাখ ৯ হাজার টাকা, উপদেষ্টা সেবা ও উপ মোট (রাজস্ব) ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ টাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে তাদের বিভিন্ন অবকাঠামো আর স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হবে।

প্রকল্পটির তত্ত্বাবধায়নে থাকা ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বলেন, থেমে যাওয়া প্রকল্পের কাজটি আবার আমরা পুনরায় শুরু করতে পেরেছি। নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলে জনসাধারণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ আমরা শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।