আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে ঝুঁকি থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। করোনা যত বড়ো শত্রুই হোক, আমাদের সর্বাত্মক প্রয়াস সম্মিলিতভাবে এই শত্রু পরাজিত করা সম্ভব হবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল শুক্রবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে পারব তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে করোনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন আক্রান্ত হয়েছে, এক জন মারা গেছেন। তার পরেও ঝুঁকিতে আছে। তিনটি উপনির্বাচন পেছাতে বিএনপির দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘তারা সবকিছুতেই রাজনীতি খুঁজে বেড়ান। নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার। নির্বাচন করা বা পেছানোটা ইসির বিষয়, এখানে সরকার মাথা ঘামায় না। মির্জা ফখরুলের আবেদন ইসি গ্রাহ্য করবে কি না সেটা একান্তই ইসির বিষয়।’ বিরোধী দলের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন যে নির্যাতন হচ্ছে, অত্যাচার হচ্ছে। তাদের এ ঢালাও অভিযোগ করাটা পুরাতন অভ্যাস। কোথায় নির্যাতন হচ্ছে তারা প্রমাণ নিয়ে আসুক।’
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি এক জন সাহসী রাজনীতিক ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। এক-এগারোর সময় যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারাগারে ছিলেন, তখন তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। দলের দুঃসময়ে, সংকটের সময় জিল্লুর রহমান ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। তিনি বয়সের বাধা অতিক্রম করে দলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন দলের সংকটের সময়। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন তা কর্মীদের প্রেরণার উত্স।’ ২০১৩ সালের এই দিনে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন জিল্লুর রহমান। গতকাল শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
