ড. কামালের সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেন পুলিশ কর্মকর্তারা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৫

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গতকাল বুধবার দুপুরে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সম্পর্কে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেছেন এমন অভিযোগ ওঠার একদিনের মাথায় ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে (মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ভবন) যান পুলিশ কর্মকর্তারা। ডিএমপি মতিঝিলের ডিসি (উপ-কমিশনার) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এডিসি শিবলী নেমান, ট্রাফিক এডিসি নাজমুন নাহার ও এসি মিশু, মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক ড. কামালের সঙ্গে দেখা করেন। তারা সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় তারা প্রবীণ এই নেতার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।          সাক্ষাতের ব্যাপারে মতিঝিলের ডিসি (উপ-কমিশনার) আনোয়ার হোসেন বলেন, এটা আমার ডিউটির অংশ। তাই আমি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গিয়েছিলাম। তার কাছে নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চেয়েছি। তিনি বলেছেন, তার নিরাপত্তার কোনো কিছু  প্রয়োজন হলে তিনি টেলিফোনে জানাবেন। ডিসি বলেন, আমি কোথাও গেলে আমার সঙ্গে আমার ডিভিশনের অফিসাররা থাকেন। তারা সবাই সেখানে আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন। আমি তার সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছি। ড. কামাল হোসেন কি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি আনোয়ার বলেন, উনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এ জাতীয় কিছু বলেননি। নিরাপত্তার ব্যাপারে তাহলে স্বপ্রণোদিত হয়ে গিয়েছিলেন কি না- জানতে চাইলে ডিসি বলেন, নিরাপত্তার জন্য স্বাভাবিক ডিউটির অংশ হিসেবেই আমরা গিয়েছিলাম। এডিসি শিবলী নোমান বলেন, যেহেতু ড. কামাল হোসেনের অফিস আমাদের এলাকায়, তাই তার সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তার নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো সহযোগিতা লাগবে কিনা, আমরা তার কাছে তা জানতে চেয়েছিলাম। তার নিরাপত্তা নিয়েই মূলত কথা হয়েছে। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা নিয়ে ড. কামালের কোনো অভিযোগ রয়েছে কিনা জানতে এবং পুলিশের বিষয়ে তার আস্থার সংকট বিষয়ে কথা বলতে ও তাকে আশ্বস্ত করতে ডিএমপি কমিশনার তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চেয়েছিলেন। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন।

ড. কামাল হোসেনের চেম্বার থেকে পুলিশ চলে যাওয়ার পর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, উনি (ডিসি আনোয়ার) পুলিশ কমিশনারের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। পুলিশ কমিশনার দেখা করতে চাচ্ছিলেন; কিন্তু যানজটে আসতে পারেননি।

ডিসি তখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের সভাপতির নিরাপত্তার জন্য বাড়তি কোনো ব্যবস্থা দরকার আছে কি না। আমাদের সভাপতি বলেছেন, তার প্রয়োজন নেই। তবে পুলিশ যদি মনে করে, তাহলে দিতে পারে। অফিসে এসে খোঁজ-খবর নেওয়ায় পুলিশকে ড. কামাল ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও জানান মন্টু।

পুলিশকে ‘জানোয়ার’ বলার ব্যাখ্যা দিলেন ড. কামাল

মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে পুলিশকে ‘জানোয়ার’ বলে সম্বোধন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার দুপুরে মতিঝিলে নিজ চেম্বারে ব্যাখ্যা দেন ড. কামাল হোসেন। সাংবাদিকদের একজন তাকে প্রশ্ন করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে আপনি পুলিশকে ‘জানোয়ার’ বলেছেন- এ কথাটি সত্য কি না।

এর জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ওই অর্থে তো বলি নাই, পুলিশ মানুষের মতো করে ভূমিকা রাখবে এটা আমরা সবাই আশা করি। ইনফ্যাক্ট আমি যখন সংবিধান লিখি তখন পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ছাড়া একটা সাংবিধানিক শাসন কখনই চলতে পারে না। ড. কামাল হোসেন বলেন, পুলিশকে আমি খুব মূল্য দেই, তারা শক্ত ভূমিকা রাখবে তাই আমরা আশা করি। আমার এমন কোনো বক্তৃতা পাবেন না যেখানে আমি পুলিশের প্রশংসা করিনি। পুলিশের যে ইতিহাস ও ঐতিহ্য আমরা ধরে নিচ্ছি তারা সংবিধানের পক্ষে কাজ করবে। পুলিশের প্রশংসা করে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, আমার বাসা রাজারবাগ। ২৫ মার্চ রাতে আমি দেখেছি রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে জয় বাংলা রণধ্বনিতে পুলিশ কিভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আমার নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। যারা এসেছিল তারা বলেছেন, যদি আমার নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়, তাহলে যেন তাদের জানাই। এছাড়া আর কিছু বলেন নাই। ডিএমপি কমিশনার সাহেবের আসার কথা ছিল, উনি আসতে পারেননি বলে আমাকে ফোন দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একটি কাজে আটকে যাওয়ার কারণে উনি আসতে পারেননি।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, আপনারা তো দেখতেই পাচ্ছেন নির্বাচনের পরিস্থিতি, আমাদের প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। ধরপাকড় অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এমন চিত্র এর আগে কোনোদিন দেখিনি, শুনিওনি। আমরা সব সময় বলি, দাবি করি এবং সংবিধানেও আছে যে, দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার কথা। এটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব। আমরা সব সময় তাদের এটা স্মরণ করিয়ে দেব; কিন্তু সরকারের কার্যকলাপ দেখে আমরা ভরসা পাচ্ছি না। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক মেনে নেবেন কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা পরিস্থিতি বুঝে উত্তর দেওয়া যাবে। হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্নের উত্তর এখন দিতে পারব না।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকের এক পর্যায়ে সিইসি কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এ সময় বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংবাদ সম্মেলন করে সিইসি কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ চান।