বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে নির্বাচনী দুর্বৃত্তায়ন চলছে। একজন প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনী এলাকায় আমার নিরাপত্তা নেই। যুবলীগ, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা আমার বাড়ির চারপাশে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দুই দিন আগে আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এরপর আমি জেলার সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরেও প্রশাসন থেকে আমি এর উত্তর পাইনি। বর্তমানে আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ অবস্থায় আমি আর গণসংযোগে যাব না।
গতকাল বুধবার বিকেলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মওদুদ বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে কোম্পানীগঞ্জে ২৬টি মামলা করে আমার নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। ১৫ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। কী নিয়ে আমি নির্বাচন করব? সেনাবাহিনী এসেছে লাভ কী? সেনাবাহিনী থাকা অবস্থায় আমার ওপর হামলা হয়েছে। তারপরেও এ অবস্থায় আমি নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাব এবং শেষদিন পর্যন্ত মাঠে থাকব। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমান, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিনুল হক প্রমুখ।
মওদুদের বক্তব্যের প্রতিবাদ: এদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে একই দিন বিকালে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলের উপজেলা শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে দলের নোয়াখালী জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাদল বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থী যিনি দীর্ঘদিন এ এলাকার এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু কোনো উন্নয়ন করেন নাই। তাই আজকে তার নেতা-কর্মীরা তার ডাকে সাড়া দেন না। সাড়া না দেওয়ার কারণে তিনি বাড়িতে বসে বসে অভিযোগ করছেন। তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নাকি হামলা চালাচ্ছে- এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা উনার এ মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান প্রমুখ।
