খরায় পানীয় জলের সংকট
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
গোপালপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্থাপিত সবকটি গভীর নলকূপ অকেজো ও বিকল থাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। জানা যায়, খরা মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ হস্তচালিত অগভীর নলকূপে পানি উঠে না। আবার বর্ষাকালে নিম্নাঞ্চল ডুবে গেলে অগভীর নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার সাত ইউনিয়নে প্রায় পনেরো লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি ডিপ হেডেড তারা পাম্প স্থাপন করেন।
আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন অভিযোগ করেন, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত গভীর নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তিনি একাধিকবার তাগিদ দিলেও নলকূপটি সচল করা হয়নি। মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, খরা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসকে বিকল নলকূপ সচল করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অফিস কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমতাবস্থায় শিশুদের পানীয় জলের কষ্ট নিবারণে এক দানশীল ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতায় স্কুলমাঠে একটি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব অভিযোগ করেন, যমুনা বিধৌত দরিদ্র মানুষ এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বর্ষাকালে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখারিয়া গ্রামে এ ধরনের একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে। কিন্তু স্থাপনের পরই পানিতে ব্যাপক আয়রন আসা শুরু হয়। কারিগরি ত্রুটির জন্য পানি তুলতে হ্যান্ডেলে প্রচণ্ড জোরে চাপ দিতে হয়। হ্যান্ডেল ফসকে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। এতে স্কুলের অনেক বাচ্চা বা মহিলা আহত হয়।
ফলে গ্রামবাসী এমন নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে নলকূপটি বিকল হলে কর্তৃপক্ষ আর মেরামত করেনি। মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদার অভিযোগ করেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পুরো প্রকল্পটাই ছিল ভুলে ভরা। গভীর নলকূপ কমপক্ষে ৪০০ ফিট বোরিং করা অপরিহার্য। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মাত্র ২০০-২৫০ ফিট বোরিং করে নলকূপ স্থাপন করায় সুপেয় পানির পরিবর্তে আয়রনযুক্ত জল নির্গত হয়। এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রেদোয়ান আহমেদ জানান, কারিগরি পরামর্শ বিভাগের অনুমোদনক্রমে এসব নলকূপ স্থাপন করা হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে টেকসই না হওয়ায় এ ধরনের নলকূপ এখন আর বসানো হচ্ছে না। খুচরা যন্ত্রাংশ না থাকায় এসব বিকল নলকূপ সচলও করা যাচ্ছে না।
