খুলনায় করোনা ভাইরাস আতঙ্কে রাস্তাঘাট ফাঁকা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২০, ২১:৩৬

দূরপাল্লার বাসেও নেই যাত্রী চাপ

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনায় করোনা ভাইরাস আতঙ্কে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে না। খুলনায় এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত না হলেও মানুষের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ও সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা ডাকবাংলো ও পিকচার প্যালেস মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় লোকসংখ্যা খুবই কম। প্রায় একই চিত্র নগরীর রয়্যাল মোড়. সাতরাস্তা মোড়, ফেরিঘাট মোড়, ময়লাপোতা মোড়, শিববাড়ী মোড়, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, গল্লামারী, দৌলতপুর কলেজ মোড়, মুহসীন মোড় ও রেলিগেট মোড় এলাকা। তবে, নগরীর বড়ো বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য মানুষের ভিড় ছিল প্রায় স্বাভাবিক।

নগরীর সাত রাস্তা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বাস কাউন্টারগুলো যাত্রী শূন্য। সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের বুকিং ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার ৪০ সিটের বাস খুলনা থেকে ২৯ জন যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া শুক্রবার রাত ৯টার বাসে ২৪ জন, সোয়া ৯টার বাসে ১৭ জন, পৌঁনে ১০টার বাসে ১২ জন, ১০টার বাসে ১৬ জন ও রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে, ঢাকা থেকে একটি বাসে ৪২ জন থেকে ৪৫ জন যাত্রী আসছে। যা নির্ধারিত সিটের চেয়ে দুই জন থেকে পাঁচ জন বেশি।

ইসমাইল হোসেন জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ২১ মার্চের বাসের কোনো টিকিট বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হবে কী না তাও জানি না। এ রকম হলে ফাঁকা বাসই ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়তে হবে।

ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তাদের কাউন্টার থেকে ৪০ সিটের একটি বাস ২৫ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টায় অপর একটি বাস মাত্র তিন জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঈগল পরিবহনের একটি বাস রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ২৯ জন যাত্রী নিয়ে রওয়ানা দেয়। এছাড়া রাত সাড়ে ৮টায় ১৯ জন ও রাত ১০টায় ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তিনি জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাত সাড়ে ১০টার গাড়িতে মাত্র দুটি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, এ রকম অবস্থা থাকলে বাস বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কর্তৃপক্ষের উপায় থাকবে না।

গ্রিন লাইন পরিবহনের সেল্স অপারেটর শহীদুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই দিনের বাসের কোনো টিকিট বিক্রি হয়নি। তবে, শুক্রবার রাত ৯টার বাসে ১৩ জন, সাড়ে ৯টার বাসে ৮ জন ও ১০টার বাসে ১১ জন যাত্রী খুলনা থেকে ঢাকায় গেছে। অপরদিকে, গতকাল শনিবার ভোরে গ্রিন লাইনের একটি বাস মাত্র ৬ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে খুলনায় এসেছে।