ফুলবাড়ীতে আইসোলেশন ইউনিট থাকলেও নেই মাস্ক ও গাউন

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২০, ২১:৩৬

বিদেশফেরত পাঁচ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। সরকারিভাবে তাদের জন্য মাস্ক, গাউন কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তা সামগ্রীও বরাদ্দ আসেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. এনায়েতুল্লাহ নাজিম জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সা ও পরিচর্যায় ১ মার্চ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। এতে শয্যা রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে পুরুষের জন্য তিনটি ও নারীর দুইটি। এছাড়াও উপজেলা বেতদীঘি ইউনিয়নের ১০ শয্যার চিন্তামন মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতালকেও আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে কাজে লাগাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা দেওয়ার বিষয়ে হাসপাতালের চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। মাস্ক কিংবা গাউনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিদিনই চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভাসহ দিক নিদের্শনা দেওয়া হচ্ছে। তবে উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত না হলেও বিদেশ ফেরত পাঁচ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে চিকিত্সকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড় জেলায় করোনা চিকিত্সায় জেলা সদরসহ জেলার পাঁচ উপজেলার কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই নেই চিকিত্সকদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম। শুক্রবার পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে পর্যাপ্ত পারসোনাল প্রটেক্ট ইকুইপমেন্ট (পিপিই) নেই, নেই মাস্ক ও গ্লাভসও। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে করোনা সন্দেহে আক্রান্ত বা করোনায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকেই স্বাভাবিকভাবে চিকিত্সা সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব প্রয়োজনীয় জিনিস না থাকায় চিকিত্সকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরাও আতঙ্কিত। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, চিকিত্সকদের পারসোনাল প্রটেক্ট ইকুইপমেন্ট (পিপিই) নেই। নেই টেস্টিং কিট। সবচেয়ে শঙ্কার কথা জেলা শহর তো বটেই জেলার অন্য হাসপাতালগুলোতেও একটি মাস্ক ও গ্লাভসও নেই। আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, জেলায় মাত্র ২০টি পিপিই রয়েছে। মাস্ক ও গ্লাভস আমরা ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করছি। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী রবিবারের মধ্যে কিছু পাওয়া যাবে।