রবি সাহেবের ভাবনায় ছেদ পড়ল স্ত্রী রিজিয়ার ডাকে। তিনি ফিরে তাকালেন। রিজিয়া বেগম তাড়া দিলেন, কী গো ঘরে চলে এসো। সন্ধ্যে পেরিয়ে এখন রাত নেমে এল বলে।
এটুকু বলেই দরজা বন্ধ করে দিলেন তিনি। রবি সাহেব আবার অন্যদিকে মনোনিবেশ করলেন। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার রবি সাহেব বিকালবেলাটা বাগানেই কাটান। রোজ সিঁদুরে আমগাছের দিকে চেয়ে থাকেন। সেখানে বাসা বেঁধেছিল জোড়া শালিকপাখি। সকালে স্ত্রী ও পুরুষ শালিক দুটো গাছের আশপাশে ঘুরঘুর করলেও বাচ্চা পাখিটির দেখা পাননি। তারপর থেকে তাঁর মন খারাপ। শুধু খারাপ না, ভীষণ খারাপ। তিনি ঘরে চলে এলেন।
রিজিয়া বেগম স্বামীর চেহারা দেখে বললেন, ‘কী হলো, মন খারাপ কেন?’
রবি সাহেব উত্তর দিলেন না। কিছুক্ষণ নীরব থেকে শেষে চাপাস্বরে বললেন শালিকের বাচ্চা খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাটা। তারপর বিড়বিড় করে বললেন, ‘বোধহয় তার নিজেকে চেনার সময় হয়েছে। তাই উড়াল দিয়েছে বাঁধন ছিঁড়ে।’
তারপর চুপ করে গেলেন। সেদিন রাতের বেলায় দুজনেই না খেয়ে থাকলেন। গভীর রাত পর্যন্ত বারান্দায় বসে দুজনেই কাঁদলেন। নিঃশব্দে, যাতে কেউ না জানে।
আজকের এই ঘটনাটা হয়তো বিগত তিন বছরের বৃদ্ধাশ্রমের বীভত্স জীবনের দুঃখটাই আরো বাড়িয়ে দিল। হঠাত্ করেই রিজিয়া বেগম বলে উঠলেন, জানো, কিছু কিছু পাখি বড্ডো অসময়ে উড়াল দেয়। তবু তাদের ডানা দুটোকে ওড়ার উপযোগী করে দেওয়া বাবা-মায়ের দায়িত্ব। সবাই তো আর রক্তের টান ভুলতে পারে না...।
