ফারহানা ইয়াসমিন
চীনের উহান শহরে করোনার উত্পত্তি হলেও সারা বিশ্বের শতাধিক শহরে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে করোনা সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে এই করোনা ভাইরাস মানুষকে যতটা না আক্রান্ত করছে, তার থেকে এটির কারণে তৈরি গুজব আরো বেশি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে, অনেকে গাড়ি নিয়ে এসেছে বেশি করে বাজার করার জন্য, বেশি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো কিনে রাখার জন্য, যাতে করে দাম বেড়ে গেলে তারা অনায়াসে তাদের অগ্রিম ক্রয়কৃত পণ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে পারে। কিন্তু এই হুজুগে বাঙালি এটা বোঝে না, তাদের এই কাজের জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে। তখন একসঙ্গে দুই সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে—এক. ভাইরাসের উপদ্রব, দুই. পণ্যসামগ্রীর চড়া দাম, যেটা একসময় দুর্ভিক্ষে পরিণত হতে পারে।
এবার মিডিয়া জগতের দিকে নজর দিলে দেখা যায় এটার অপব্যবহার। অশিক্ষিত লোকজনের হাতে মিডিয়ার মতো বিষয় সহজলভ্য হওয়ায় করোনা নিয়ে বেশি বোঝার কারণে অসচেতনতা বেড়ে গেছে। ফেসবুক খুললেই করোনা সম্পর্কে হাজার হাজার তথ্য পাওয়া যায়। ইউটিউবে সার্চ দিলে করোনা নিয়ে বাঙালির ব্যঙ্গাত্মক গান, কবিরাজদের ওষুধ বানানোর ভিডিও দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশ তথ্যই হচ্ছে ভুল, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এরকম হাজার হাজার তথ্য থাকায় প্রকৃতপক্ষে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে কোন তথ্যগুলো তারা কাজে লাগাবে আর কোনগুলো তারা রিজেক্ট করবে। মোদ্দাকথা, তথ্যের সমারোহের কারণে মানুষ ‘করোনা’ নামটি ভুলে গিয়ে বিদেশফেরত প্রবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়তা শুরু করে দিয়েছে।
করোনার সঙ্গে গুজবের সম্পর্কটা ঠিক কেমন? এই যে বাঙালি নামক ট্যাগটা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে আমরা অর্জন করেছি, কিন্তু বর্তমানে মানুষের কার্যকলাপের কারণে বাঙালি শব্দটি একটা গালাগাল হয়ে গিয়েছে। যেমন-কিছুসংখ্যক মানুষ এই ভয়াবহ সময়ে নিজেদের মতো করে করোনা নিয়ে নানা রকমের গুজব, আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে।
আবার আরেকটা জিনিস দেখা যাচ্ছে, সমস্ত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় অনেকে ট্যুরে যাচ্ছে। অনুগ্রহ করে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখুন এবং বাঙালি শব্দটির পবিত্রতা রক্ষা করুন। এখন আমাদের উচিত করোনা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো নিজে মেনে চলা এবং অন্যকে মেনে চলার জন্য বলা এবং কোনো রকম গুজবে কান না দেওয়া। বরং সচেতন থাকতে হবে প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে পার্লামেন্টারি পর্যন্ত কাউন্সিলিং করা দরকার। কারণ অনেকেই ভাবছে এটা শহুরে রোগ, গ্রামে আসবে না। আবার অনেকে মনে করে, এটা বিদেশিদের আক্রমণ করবে, আমাদের না। সর্বোপরি আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা চাওয়া।
n লেখক :শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
