করোনা আতঙ্কে মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে বিশ্বব্যাপী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাস্তাঘাটে বের হলে মাস্ক ব্যবহারকারী মানুষই বেশি দেখা যায়। এদিকে চিকিত্সকদের উপলব্ধি মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম মানুষ জানেন না। ভুল পদ্ধতিতে ব্যবহারের কারণে বিপদ হতে পারে।
সার্জিক্যাল মাস্কের ব্যবহারবিধি
n আগে হাত পরিষ্কার করুন, তারপর মাস্ক ব্যবহার করুন।
n কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাস্কের সঙ্গে পুরু ব্যান্ড রয়েছে কি-না। এই ব্যান্ড দিয়েই আপনার নাকের মাপ অনুযায়ী মুখে আটকে থাকবে মাস্কটি।
n মাস্কের ভেতরে থাকা ক্লিপ নাকের ব্রিজের ওপর বসিয়ে নিন। মাস্কে ‘ফিল্টার’ থাকলে তা বসবে নিচের দিকে।
n মুখে মাস্ক এমনভাবে সেট করুন যাতে ত্বক ও মাস্কের মাঝে ফাঁক না থাকে।
n ওপরের দড়িটি কানের ওপর দিয়ে মাথার পেছনে শক্ত করে বাঁধুন। লম্বা চুল থাকলে ফাঁস থাকবে তার নিচে। নিচের দড়ি কানের নিচ দিয়ে বাঁধুন শক্ত করে।
n মাস্ক পরা অবস্থায় তাতে হাত দেবেন না।
n ৬-৮ ঘণ্টা পর নতুন মাস্ক আবশ্যক। মাস্ক ভিজে গেলে বদলান।
n মাস্ক খোলার সময়ে আগে নিচের দড়ি, পরে ওপরেরটা খুলুন।
n মাস্কটি কাঁচি দিয়ে কেটে নির্দিষ্ট বিনে ফেলুন। যাতে অন্য কেউ পরিষ্কার করে ফের ব্যবহার বা বিক্রি করতে না পারে।
যাদের মাস্ক ব্যবহার করা উচিত
হাঁচি, সর্দি, কাশি কিংবা জ্বরে যারা ভুগছেন তাদের সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া যারা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন এবং তাদের তদারকির জন্য যারা নিয়োজিত তাদের মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। অযথা সকলের মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।
বিনা কারণে মাস্ক ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও দাবি বিশেষজ্ঞদের। আতঙ্কে যেসব মানুষ সাধারণ মাস্ক ব্যবহার করছেন তাতে বিপদ বাড়তে পারে। দিনের পর দিন একই মাস্ক ব্যবহার করলে ইনফেকশন হতে পারে। এমনকি করোনার মতো ভাইরাসও জেঁকে ধরতে পারে।
একটি মাস্ক কতক্ষণ ব্যবহার
করা যাবে
মনে রাখবেন, একটি মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার করবেন না। নিয়ম অনুযায়ী একটি মাস্ক ২ ঘণ্টার বেশি পরে থাকা যায় না। কোনো কোনো ভালোমানের মাস্ক একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি পরা ঠিক না। কিন্তু আমাদের পক্ষে তো আর বারবার এই মাস্ক পরিবর্তন করা সম্ভব না। কাজেই সর্বোচ্চ একদিন ব্যবহার করবেন এবং ব্যবহার শেষে যেখানে সেখানে না ফেলে রোগ-জীবাণু যেন না ছড়ায় সেভাবে কাগজের প্যাকেটে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিন।
