এবার আক্রান্ত দিবালা, মালদিনি

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ২০:৫২

স্পোর্টস ডেস্ক

ইতালিয়ান ফুটবলে করোনা সংক্রমণ যেন থামছেই না। গত শনিবার রাতে করোনাক্রান্ত হওয়ার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে পাওলো দিবালার নাম। এর কিছু পরই জানা যায় ইতালীয় কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি ও তার ছেলে দানিয়েল মালদিনিও করোনার কবলে পড়েছেন। এদিকে চাইনিজ সুপার লিগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মারওয়ান ফেলাইনি।

দিবালা গেল সপ্তাহেও একবার করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। সে যাত্রায় ফলাফল নেগেটিভ এলেও গত শনিবার তার শরীরে জীবাণুটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। তার প্রেমিকা ওরিয়ানা সাবাতিনও করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় পজেটিভ প্রমাণিত হয়েছেন। এর আগ থেকেই অবশ্য দুই জনে নিজেদের ঘরে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন।

নিজের করোনাক্রান্ত হবার খবরটি জানিয়ে টুইটারে দিবালা লেখেন, ‘আপনাদের জানাতে চাই, আমি ও ওরিয়ানা দুই জনেই কোভিড ১৯ পরীক্ষায় পজেটিভ প্রমাণিত হয়েছি। ভাগ্যক্রমে আমরা দুই জনেই ভালো অবস্থায় আছি। বার্তার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ।’

করোনায় পজেটিভ প্রমাণিত হলেও দিবালার শরীরে অবশ্য এখনো কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায়নি। তবে জুভেন্তাস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ডকে ক্লাবের নজরদারিতে রাখা হবে। তবে ক্লাবটির হয়ে দিবালাই প্রথম করোনাক্রান্ত ব্যক্তি নন। এর আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তারই সতীর্থ দানিয়েলে রুগানি ও ব্লেইসে মাতুইদি। এদের মধ্যে রুগানি আবার ছিলেন প্রথম সিরিআ খেলোয়াড়ও।

দিবালার আক্রান্ত হওয়ার কিছু পরই ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমে মালদিনিদের করোনায় পজেটিভ হওয়ার সংবাদ প্রকাশ পায়। বাবা পাওলো মালদিনি বর্তমানে আছেন এসি মিলানের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে, আর ছেলে দানিয়েল খেলছেন মিলানের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে; কিছুদিন আগে অভিষিক্ত হয়েছিলেন মূল দলের হয়েও।

শনিবার মিলান কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে দুই জনের করোনায় আক্রান্ত হবার কথা জানায়। বিবৃতিটিতে বলা হয়, ‘এসি মিলান জানাচ্ছে যে, ক্লাবের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন যিনি সম্প্রতি করোনায় পজেটিভ প্রমাণিত হয়েছেন এবং যার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করেছে।’

ক্লাবটি আরো যোগ করে, ‘গতকাল তাকে একটি সোয়াব টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে যার ফলও পজেটিভ এসেছে। তার ছেলে দানিয়েল, যে এসি মিলানের বয়সভিত্তিক দলে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলছে এবং মূল দলের সঙ্গে অনুশীলন করছে, সেও পজেটিভ প্রমাণিত হয়েছে।’

তবে দুই জনেই ভালো আছেন বলে জানিয়েছে ক্লাবটি। করোনায় আক্রান্ত হবার আগ থেকেই দুই জনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন, তবে এখন করোনা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাদের এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সব মেডিক্যাল প্রটোকলও মেনে চলতে হবে।

চীনে রোগটির উত্পত্তি হলেও এতদিন পর্যন্ত রোগটিতে চাইনিজ সুপার লিগের কোনো খেলোয়াড় আক্রান্ত হননি। তবে গতকাল রবিবার সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার মারওয়ান ফেলাইনি প্রথম সিএসএল খেলোয়াড় হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হন। গতকাল টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি এ খবর জানান। তবে করোনায় পজেটিভ প্রমাণিত হলেও এখনো কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি বলেই জানিয়েছেন তিনি।