সরকারকে ১৬-১৭টি আসন উপহার দিল সংশ্লিষ্টরা : ২০ দল

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৩৪

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নেতারা বলেছেন, ১৬-১৭টি আসন আমাদের প্রার্থীবিহীন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই আসনগুলো সরকারকে উপহার দিল সংশ্লিষ্টরা। গতকালও ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার-৪ আসন ও নাটোর-৪ এর প্রার্থী রয়েছে। নরসিংদী-৩ আসনের মনজুর এলাহির প্রার্থিতা বাতিল করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ছিল নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু বিরোধী দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ, মামলা, হামলা চলছে।

গতকাল বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এক জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। নজরুল বলেন, এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না, নারীর পক্ষেও না, ধর্মনিরপেক্ষও না। এসব তাদের মুখের কথা। এটা তাদের ভোটের কথা। এই নির্বাচনে আমাদের বহু মুক্তিযোদ্ধার ওপর তারা হামলা করেছে। এই সরকার বলে তারা নারীদের সম্মান করে। অথচ আমাদের নারী প্রার্থীদের ওপর হামলা করেছে তারা। তারা বলে তারা ধর্মনিরপেক্ষ, আর তার প্রমাণ দিয়েছে আমাদের গয়েশ্বর রায়কে আহত করে। তারা ক্ষমতালোভী একটি দল মাত্র।

তিনি বলেন, হামলা, বাধা ও আক্রমণ বিষয়ে আমরা সিইসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তাকে বলেছি, এখন দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ আপনি। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। কিন্তু তিনি আক্রমণকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। আজকে আমরা ২০ দল থেকে বলছি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অক্ষম ও অনাগ্রহী। যিনি আক্রমণকারীদের পক্ষ নেন তাকে দিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সে কারণে তার পদত্যাগ দাবি করছি। সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ করে নজরুল বলেন, সেনাবাহিনীর সারা দুনিয়ায় যে সুনাম আছে, তারা নিজ দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে সেই সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে বলে প্রত্যাশা করি।

নজরুল ইসলাম বলেন, এভাবে গায়ের জোরে ক্ষমতায় এসে কি হবে? এরকম কত এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কথা মানুষ ভুলে গেছে। হয়তো জিতবেন। তাতেই কি সব শেষ হয়ে যাবে? আমরা না জিতলে কি সবকিছু শেষ হয়ে যাবে? জনগণ সব দেখছে।