স্পোর্টস ডেস্ক
হাঁটুর চোট নিয়ে যখন মাঠের বাইরে যান লুইস সুয়ারেজ, তখন চিকিত্সকদের ধারণা ছিল মৌসুমের হয়তো ফিরবেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে বার্সেলোনা স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, চিকিত্সকদের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই মাঠে ফিরবেন তিনি।
জানুয়ারিতে অস্ত্রোপচারের পর সুয়ারেজের মাঠে ফেরার সময়টা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল মে মাসের শুরুতে। তবে এরপর ক্রাচ ছাড়তে খুব বেশি সময় নেননি সাবেক লিভারপুল স্ট্রাইকার। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায়ও এগোচ্ছেন খুব দ্রুতই। যারই ফল এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই মাঠে ফেরার সম্ভাবনা।
করোনা ভাইরাসের কারণে এখন স্প্যানিশ লিগের খেলা স্থগিত হওয়ায় কিছুটা উপকারই হয়েছে বার্সার। চোট কাটিয়ে আগেভাগে ফেরার জন্যে সুযোগ হয়েছে সুয়ারেজের। স্কোয়াডের বাকি সদস্যরাও ছোটোখাটো চোট সেরে ওঠার সময় পাচ্ছেন বেশ। তবে এ স্থগিতাদেশ শেষ করে শিগিগরই লিগ মাঠে ফেরাতে প্রত্যয়ী লা লিগা কর্তৃপক্ষ। সেটা হতে পারে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আর তা হলে হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠা সুয়ারেজকে হয়তো দেখা যেতে পারে প্রথম ম্যাচ থেকেই।
সম্প্রতি রেফারি ম্যাগাজিনকে সাক্ষাত্কারে সুয়ারেজ বলেন, ‘যেভাবে আমরা ব্যাপারটাকে সামলেছি তাতে ফেরাটা খুব সম্ভব হয়ে উঠেছে। এখন যদিও অবস্থাটা পালটেছে, তবে একটু আগেভাগে ফেরার ভাবনাটা শুরু থেকেই ছিল আমার। আমার ডাক্তার আমাকে বলছিলেন যে আমি খুব ভালো কাজ করছি এবং তাড়াতাড়ি মাঠে ফেরার ব্যাপারে আমাকে আশা জুগিয়েছিলেন। পার্থক্যটা হচ্ছে এখন দল যখন ফিরবে আমিও খেলতে প্রস্তুত থাকব।’
তবে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে অস্ত্রোপচার করাতে চাননি সুয়ারেজ। জানালেন মৌসুমের শেষেই শল্যবিদের ছুড়ির নিচে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। সুয়ারেজের ভাষ্য, ‘মে মাসের শুরুর দিকে এটা করতে হবে এমন অনুমান করা হচ্ছিল কিন্তু ডাক্তারদের সঙ্গে বেশ কিছু সভার পর আর আমার চলমান বাজে অবস্থার কারণে একে এগিয়ে আনতে হয়েছিল।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাকে যা করতে বলা হয়েছিল সে কাজের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিতে পেরেছি আমি। আর এটাই আমাকে অনুমিত সময়ের আগেই ফিরতে সহায়তা করেছে।’
তবে নিজের শিগিগরই ফেরার আনন্দ ছাপিয়ে সুয়ারেজের কাছে এখন বড়ো হয়ে উঠছে করোনার প্রভাব। উরুগুইয়ার এই ফরোয়ার্ড ভক্ত-সমর্থকদের নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে আমাদের এবং বাস্তববাদী হতে হবে। মানুষজন খেলা দেখার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে না। তারা অপেক্ষা করছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার। জীবনকে আবারও উপভোগ করার অপেক্ষায় দিন গুনছে।’
