আমীরুল ইসলাম
আমার সবচেয়ে খুদে বন্ধুর নাম রাজিন। এবার ক্লাস টুতে উঠেছে। খুবই দুরন্ত ও ছটফটে। আর নানা রকম প্রশ্ন তার মাথায়। পরীক্ষা শেষে আবদার করল, কাকা আমাকে একটা সাইকেল কিনে দাও।
শিশুরা কোনো আবদার করলে সেটা গুরুত্ব দিতে হয়। যত তাড়াতাড়ি রাজিনকে দুই চাকার সাইকেল কিনে দেয়া হলো। আর অবাক ব্যাপার, মাত্র পাঁচ মিনিটেই সাইকেল চলানো শিখে ফেলল। তারপর বাসার সামনের রাস্তায় যখন খুশি হাওয়ায় বেসে বেড়াতে লাগল রাজিন। সাইকেল চালনায় খুব চালু হয়ে উঠল। দ্রুত প্যাডেল মারতে পারে। সাঁই সাঁই করে ছুটতে ছুটতে ব্রেক ধরতে পারে। আর সবাই খুব অবাক হয়ে দ্যাখে, এতোটুকু একটা পিচ্চি। কী সুন্দর সাইকেল চালাচ্ছে।
দিনের একটা সময় রাজিন আমার সাথে গল্প করতে আসে। নানা ধরনের গল্প হয় দুজনের মধ্যে। সেদিন আমার শরীর হঠাত্ একটু খারাপ করেছে। প্রেসার বেড়ে গেছে। ডায়াবেটিসের মাত্রা কমে গেছে। হাত-পা ঝিনঝিন করছে। রাজিন ডায়াবেটিস মাপল। ৪.৩।
চিনি খাও। চিনি খাও। চকোলেট খাও।
চিত্কার করতে লাগল রাজিন। আমি তখন বিছানায় শুয়ে শুয়ে হাঁপাচ্ছি। রাজিন আমার মাথার পাশে বসে আছে। আমি বললাম, রাজিন ডিনার হইছে?
রাজিন চুপ। গোল গোল চোখ দুটো নাচছে। চেহারায় কপট রাগ। রাজিন আজ তো অনেক শীত। তোমার সোয়েটার না পরলে কিন্তু আমি তোমার সঙ্গে কথা বলব না।
আরো উত্তেজিত রাজিন।
যাও ঘুমিয়ে পড়ো। অনেক রাত হলো।
তাতে তোমার কী?
রাজিনের রাগ টের পাওয়া যায়। রাত তো অনেক। খামাখা রাত জেগে কষ্ট করছ।
আমার কিছু হয়নি।
এইবার রাগে ফেটে পড়ল রাজিন।
তোমার কী সমস্যা বলো তো কাকা? তুমি নিজের দিকে তাকাও। খালি আমি কী করব সেই কথা। আমি খেলাম কি না, ঘুমালাম কি না। সোয়েটার পরলাম কি না। এত এত কথা কেন বলো কাক্কা? প্লিজ নিজের কথা ভাবো। নিজেকে নিয়ে ভাবো।
শিশুর এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।
আমি চোখ বন্ধ করে চুপচাপ শুয়ে থাকি।
