মির্জাপুরে মরে যাচ্ছে গাছপালা হুমকির মুখে পরিবেশ

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ২১:৩৫

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লোকালয়, সরকারি বনাঞ্চল, নদীর আশপাশ ও ফসলি জমির ওপর ইটের ভাটা গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এর কালো ধোঁয়ায় মরে যাচ্ছে গাছপালা। ইটের ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে মাটি ও ফসল। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল হক  বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে ইটের ভাটা গড়ে তুলেছেন, তাদের ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।’ জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর আশপাশ, মির্জাপুর পৌরসভা এবং গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাহাড়ি বনের ভেতর এবং আশাপাশে শতাধিক ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে। এছাড়া উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, ভাওড়া ও বহুরিয়া ইউনিয়নেও বেশ কিছু ইটের ভাটা তিন ফসলি জমির ওপর গড়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ফতেপুর, মহেড়া, আদাবাড়ি, গোড়াইল, ভাওড়া, গোড়ান-সাটিয়াচড়া, পৌরসভার বাইমহাটি, দেওহাটা-বহুরিয়া রোডের দেওহাটা, বহুরিয়া, কোদালিয়া, সোহাগপাড়া, সৈয়দপুর, গোড়াই-হাঁটুভাঙ্গা, বেলতৈল, লতিফপুর, হোসেন মার্কেট, নয়াপাড়া বাঁশতৈল, তরফপুর, পাথরঘাটা, পলাশতলী ও আজগানা এলকায় নদীর আশপাশ, তিন ফসলি জমি ও সরকারি বনাঞ্চলের ভিতরে অধিকাংশ ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে। নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজগর হোসেন (৫৬) ও হাঁটুভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. সরাফত আলীসহ (৬০) অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ‘এসব ইটের ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকার গাছপালা, ডোবা-নালা, পুকুর ও নদীর মাছ মরে যাচ্ছে এবং বিষাক্ত হয়ে উঠেছে জমির মাটি। ফলে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে।’

ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফিরোজ হায়দার খান বলেন, ‘ইটভাটা তৈরির জন্য যে নিয়ম রয়েছে, তার সবগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু কিছু ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। যাদের ছাড়পত্র নেই তারা হাইকোর্টে রিট করে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৈধভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ সব কাগজপত্র ইটভাটার মালিকগণ সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’

মির্জাপুর বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মো. দেলোয়ার রহমান ও বিট কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম এবং মো. জাহেদ হোসেন বলেন, ‘একটি প্রভাবশালী মহল বনের ভেতরে, এলজিইডির রাস্তার আশপাশ এবং তিন ফসলি জমির ওপর ইটের ভাটা স্থাপন করছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেপুটি (সহকারী) উপপরিচালক মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে সব ইটভাটার কাগজপত্র নেই, এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইট ভাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে।’

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার গবেষণা কর্মকর্তা মি. সোমনাথ লাহিড়ী বলেন, ‘লোকালয়, ফসলি জমি এবং বনের আশপাশে ইটের ভাটা গড়ে ওঠায় ধোঁয়ায় গাছপালা মরে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়সহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল হক বলেন, ‘যারা নিয়ম না মেনে  ইটভাটা গড়ে তুলেছেন, তাদের ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইটের ভাটা বন্ধ ও মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে।’