অভিযানেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না অসাধু ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ২১:৪৫

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানুষ যখন অনেকটাই দিশাহারা তখন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কারসাজি করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিরোধে রাজধানীসহ সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও যেন কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রতিদিনই দাম বৃদ্ধির তালিকায় যুক্ত হচ্ছে কোনো না কোনো পণ্য। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন খুচরা বাজার দরের প্রতিবেদনেও দাম বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবেই গত ৪ দিনের ব্যবধানে চাল, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, ছোলা, ডিম, মুরগি, আলু, এলাচসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে নিত্যপণ্যের বাজারে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। তারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কিনছে। এতে চাপ পড়েছে বাজারে। এজন্য বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই। সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে নিত্যপণ্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনার প্রয়োজন নেই।

গতকাল রাজধানীর বাজারে প্রতি মণ গুটি চাল ১ হাজার ৪৫০ থেকে ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়। যা তিন দিন আগেও ছিল ১১৯০ টাকা। আটাশ চাল মণ প্রতি ১৯০ টাকা বেড়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে মণ প্রতি ১৩০ টাকা। প্রতি মণ স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ১১৯০ থেকে ১২০০ টাকায়। এছাড়া মানভেদে প্রতি মণ নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৯০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়।

পণ্যের দাম বেশি রাখায় দুই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল উত্তরায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-১) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়নের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা করেন। উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য ডিএনসিসি এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এছাড়া এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং প্রতিটি মার্কেটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

কারসাজি করে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মোবাইল টিম। গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগরীর উত্তরা বেগম জহুরা মার্কেট এবং তত্সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল।