করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে গতকাল রবিবার ভারতে ‘জনতা কারফিউ’ পালিত হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ১৪ ঘণ্টা কঠোরভাবে বাড়ির ভেতরে থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ডাকে সাড়া দিয়েছে ভারতের জনগণ। প্রায় সব বড়ো শহরের রাস্তায় দেখা যায়নি মানুষের ভিড়। দোকান, মার্কেট ছিল বন্ধ, মেট্রো স্টেশনের কলাপসিবল গেটে ঝুলছিল বিশাল তালা। অত্যাবশ্যকীয় বিভাগের সেবাকর্মীরা ছাড়া কেউ এ কারফিউর মধ্যে বাইরে বের হননি। প্রধানমন্ত্রী গতকাল ঠিক বিকাল ৫টায় নিজেদের বাড়ির দরজা বা জানালার সামনে এসে কিংবা ব্যালকনিতে বেরিয়ে সজোরে হাততালি দিয়ে, শঙ্খনাদ করে, দরকারে থালা-বাসন বাজিয়ে সম্মিলিতভাবে কলতান সৃষ্টিরও অনুরোধ করেছিলেন। করোনা সংকট সামলানোর চেষ্টায় যে স্বাস্থ্যকর্মীরা ও আপত্কালীন পরিষেবা বিভাগের লোকজন নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন, তাদের সারাদেশের পক্ষ থেকে অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ সমবেত করতালি আর শঙ্খনাদেরও আয়োজন করে ভারতীয়রা। জনতা কারফিউতে সাড়া দিয়ে কিছু ভারতীয় এয়ারলাইন্স সারাদিনের বহু ফ্লাইট বাতিল করে। দিল্লি বা ব্যাঙ্গালোরের মতো শহরে বন্ধ থাকে মেট্রো রেলও।
এদিকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে ভারত জুড়ে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন সাত জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪১ জন। পশ্চিমবঙ্গেও আক্রান্ত হয়েছেন চার জন। ভারতে গতকালই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা সবকটি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের ৭৫টি শহরে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে কলকাতাও রয়েছে। পাশাপাশি ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব রকম ট্রেন চলাচল বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছেন। বন্ধ করে দেওয়া হয় পণ্যবাহী সব যান চলাচলও। শুধু খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এমন পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে দেখে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পাঞ্জাব লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গুজরাটে বুধবার পর্যন্ত চারটে শহরে লকডাউন ঘোষণা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, বিহার, ওড়িশা, রাজস্থানে আংশিকভাবে লকডাউন। সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত জনতা কারফিউর মেয়াদ বাড়িয়েছে তামিলনাড়ু ও ঝাড়খন্ড রাজ্য। করোনা রুখতে সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে কর্ণাটক। দিল্লি মেট্রো সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ ছুটি ঘোষণা করেছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সরকার এক ধাপ এগিয়ে প্রায় গোটা রাজ্যেই লকডাউন ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পুরোটাই লকডাউন করা হয়েছে। আপাতত এ সিদ্ধান্ত ২৭ মার্চ পর্যন্ত। তবে প্রয়োজনে এ সময়সীমা বাড়তে পারে। এ সময়ে একসঙ্গে সাত জনের বেশি মানুষের জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
লকডাউনের নির্দেশে বলা হয়েছে—ট্যাক্সি, অটো রিকশা, সরকারি ও বেসরকারি পরিবহন বন্ধ থাকবে। চলবে না ট্রেন, মেট্রো রেলও। বিদেশি বা বিদেশ থেকে ফিরেছেন তাদের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সব সাধারণ মানুষকেও এই সময়ে বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
