সিলেটে করোনা ইউনিটে প্রবাসী নারীর মৃত্যু

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ২২:৩৭

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা যুক্তরাজ্যফেরত এক নারীর (৬১) মৃত্যু হয় শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে। সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দীন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার মৃত্যু করোনায় কি না তা সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক দেব পদ রায় নিশ্চিত নয়, মন্তব্য করে  তিনি ইত্তেফাককে রবিবার সকালে জানান, আইইডিসিআর এর টিম এসে স্যাম্পল নিয়ে রিপোর্ট দিলে আমরা সঠিক কারণ বলতে পারব। তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মারা যাওয়া ঐ নারীকে রবিবার দুপুরে সংক্রমণ বিধি অনুযায়ী  কড়া নিরাপত্তায় দাফন করা হয় নগরীর হযরত মানিকপীর (র.) টিলা কবরস্থানে। এ সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জনসহ সীমিতসংখ্যক লোক উপস্থিত ছিলেন।

নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত ব্যক্তির দাফন বা শেষকৃত্য কীভাবে হবে এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রটোকল অনুযায়ী এক সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে—করোনায়    সন্দেহভাজন কারো মৃত্যু হলে আইইডিসিআরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এসে মৃত ব্যক্তির মুখের লালার নমুনা নিয়ে নিশ্চিত করবেন যে মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ কখনোই ময়নাতদন্ত করা যাবে না।

জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শুক্রবার ঐ নারী শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। এর আগে গত ৪ মার্চ তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রবিবার আইইডিসিআর থেকে লোকজন এসে তার রক্ত পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কথা ছিল। যুক্তরাজ্যফেরত ঐ নারীর বাসা সিলেট নগরীর শামীমাবাদ আবাসিক এলাকায়।

এদিকে রবিবার ভোরে, করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মহিলার মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধূরী, সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক দেব পদ রায়, সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইউনুছুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা তাত্ক্ষণিক জরুরি সভায় পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করেন এবং ঐ মহিলার স্বজনরা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের পাটলী গ্রামে লাশ নিয়ে গিয়ে দাফনের কথা বললে তাকে জানানো হয় যেহেতু মহিলার মৃত্যু করোনায় হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তাই তার দাফন সংক্রমণ বিধি অনুযায়ী  হবে।

মৃত্যুর পর তার পরিবারকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রবিবার দুপুরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাসায় গিয়ে তাদেরকে এই নির্দেশনা দেন।

নারীর স্বজনদের কোয়ারেন্টাইন করা হবে শুনেই বাসায় তালা দিয়ে তারা পালিয়েছেন। রবিবার বিকালে নগরীর শামীমাবাদ এলাকায় ঐ নারীর বাসায় পুলিশ নিয়ে যান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক জন ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ঐ বাসায় গিয়ে  কাউকে পাননি। দরজা তালাবদ্ধ ।