বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সহজ, নিরাপদ এবং ব্যয় সাশ্রয়ী ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর এক বছর পূর্তি হতে চলেছে। এক বছরে দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মনোপলি ভাঙতে এবং টাকা লেনদেন খরচ কমিয়ে আনদতে সক্ষম হয়েছে নগদ। সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক অন্তর্ভূক্তিতে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবাটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর স্বাধীনতা দিবসে নগদ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর যাত্রা শুরুর মাত্র ১০ মাসে নগদ দৈনিক ১০০ কোটি টাকা লেনদেন করতে সক্ষম হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গত ১২ জানুয়ারি নগদ-এর দৈনিক লেনদেন ১০০ কোটি টাকা অতিক্রমের ঘোষণা দেন। এই বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মার্চ মোস্তাফা জব্বার জানান, নগদ—এ দৈনিক লেনদেন হচ্ছে ১৬০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশে ডাক বিভাগের নিজস্ব অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। ‘দ্য পোষ্ট অফিস অ্যাক্ট ১৮৯৮’-এর আওতায় অর্থ লেনদেন মানি অর্ডার হিসেবে পরিচিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ আইনে মানি অর্ডার বলবত্ আছে। নগদ হলো মানি অর্ডারের ডিজিটাল সংস্করণ। যদিও নগদ নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো নগদ দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল ব্যবস্থায় মনোপলি ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে নগদ নিয়ে অনেকে বিচলিত হয়ে পড়েছেন এবং নগদ-এর অপ্রতিরোধ্য গতি রোধের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
থার্ড ওয়েভ টেকনোলোজিস লিমিটেড বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবা নগদকে জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এই সেবার আওতায় রয়েছে গ্রাহকের প্রতিদিনের আর্থিক লেনদেন যেমন: ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, সেন্ড মানি (পি টু পি), পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি। এ ছাড়া দেশে নগদ-এ লেনদেনের খরচ সবচেয়ে কম। প্রতি হাজারে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা ক্যাশ-আউট চার্জ। আর প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ-ইন করলে ৫ টাকা ক্যাশ-ব্যাক সুবিধা দিয়ে থাকে নগদ। যার ফলে প্রতি হাজারে ক্যাশ-আউট চার্জ গিয়ে দাড়ায় ৯ টাকা ৫০ পয়সা।
তুলনামূলক বেশি অঙ্কের লেনদেনও করা যায় নগদ-এ। ছোট ব্যবসায়ীদেরকে এ লেনদেন ব্যবস্থায় আনতে চায় নগদ, যা ১০ বা ১৫ হাজার টাকার লেনদেনে সম্ভব নয়। মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং উপবৃত্তির টাকা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেবে নগদ। সরকার বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পেছনে খরচ করে, এই অর্থের পুরোটা নগদ-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে প্রধানমন্ত্রী একটি অনুশাসন জারি করেছেন।
