‘এই জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি’

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২১:০৮

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মাঝপথেই কাঁধের ইনজুরি নিয়ে ফিরেছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। অস্ট্রেলিয়ায় গেল ৯ মার্চ গিয়েছিলেন অস্ত্রোপচার করতে। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় দলের টেস্ট ওপেনার সাদমান ইসলাম ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান চিকিত্সক ডাক্তার দেবাশীষ। সফল অস্ত্রোপচার শেষে গেল মঙ্গলবার দেশে ফিরেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতে হয়েছে এই ক্রিকেটারকে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থাতেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন কাওসার মুজিব অপূর্ব।

কোয়ারেন্টাইন ব্যাপারটাই তো সবার জন্য খুব নতুন। আপনার অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই।

আসলে, এই জীবন তো মাত্র শুরু হলো। পুরোটা শেষ হলে হয়তো বিস্তারিত বলতে পারব। বিমানবন্দরে আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারপরই ছাড়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক আছে বোঝার পরই আমাদের বাসায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আপাতত (মোহাম্মদপুরের) বাসাতেই আছি, কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। অস্ত্রোপচারের পর আসলে সেটা সম্ভবও ছিল না। একেবারে যে একটা ঘরের ভেতরেও বন্দি হয়ে আছি, ব্যাপারটা তা নয়। আমার সার্জারি হয়েছে, একদম একা থাকাটা আমার পক্ষে সম্ভবও নয়। ফলে জামা-কাপড় খোলা থেকে অনেক রকম কাজের জন্য কারো না কারো সাহায্য লাগছে। পরিবারকে পাশে পাচ্ছি এমন পরিস্থিতিতে।

মাঠের খেলোয়াড়দের কী এই পরিস্থিতি হতাশা বা মানসিক অবসাদে ভোগাতে পারে?

আমি বলবো, কোনো একাকিত্ব বোধ হয় না। ক্রিকেটারদের জীবনটা তো এ রকমই। অনেক রকম ক্যাম্প করতে হয়। আজকে এই দেশ, কালকে ঐ দেশ—এভাবেই তো চলে। আমরাও তাই এই একাকী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তার ওপর আমার সার্জারি হয়েছে। দুই সপ্তাহ বিশ্রামে তো এমনিতেই থাকতে হবে। এমনিতেও বাইরে কোথাও যেতে পারতাম না। তাই আমি বলব, আমার জন্য বড়ো কোনো পরিবর্তন নেই। মানসিক অবসাদ বা হতাশায় গ্রাস হওয়ার উপায় নেই।

এই ১৪ দিনের লম্বা অবসরে সময় কাটাচ্ছেন কীভাবে?

আমি সবসময়ই বই ভালোবাসি। এখন তাই ঐ প্রিয় কাজটাই করছি। বই পড়ে সময় কাটাচ্ছি। সারাদিনই এখন নানারকম বই পড়া হয়। এর বাইরে ইন্টারনেটে সময় কাটাই। আগেকার ক্রিকেট ভিডিওগুলো দেখি, ভালোই লাগে।

অস্ট্রেলিয়াতেও ১ হাজার ৫০০র ওপর মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ওখানকার পরিস্থিতি কেমন দেখলেন?

আমরা যখন ছিলাম, তখন সব মোটামুটি স্বাভাবিকই ছিল। মেলবোর্নে অস্বাভাবিক কিছু দেখিনি। সবাই কিন্তু সিডনিতে গিয়ে শুনলাম ওখানকার অবস্থা নাকি মারাত্মক। আমি আমার এক আঙ্কেলের বাসায় গিয়েছিলাম। তিনি বললেন, বাসা থেকে অফিস করছেন। দেশে ফেরার পর শুনলাম ওখানকার অবস্থা নাকি এখন আরো খারাপ।

 দেশের সব রকম ক্রিকেট তো আপাতত বন্ধ। প্রিমিয়ার লিগও বন্ধ। এটা ক্রিকেট বা ক্রিকেটারদের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

 খেলা বন্ধ থাকা তো অবশ্যই ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের জন্য ক্ষতিকর। এটাই তো আমাদের কাজের জায়গা।  ক্রিকেটে,  একটা প্রক্রিয়া থাকে, একটা পরিকল্পনা থাকে, একা সূচি। সেই মাফিক সবকিছু হয়। ক্রিকেটাররাও সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করেন। সব আগে থেকে জানা থাকে বলেই নিজেদের তৈরি রাখার ডেডলাইনটা বোঝা যায়। তাই বলতে হবে সেই পরিকল্পনা এখন এলোমেলো হয়ে গেছে। কিন্তু একটা ব্যাপার সত্যি যে, কেবল বাংলাদেশ নয়, সবার অবস্থাই এখন একই রকম। ফলে পেছালে সবাই এক সঙ্গেই পেছাচ্ছি। করোনা ভাইরাসকে সবাই গুরুত্বসহকারে দেখছে, আমাদেরও দেখতে হবে। সবার সুরক্ষার স্বার্থেই এখন সব বন্ধ রাখাটা সঠিক সিদ্ধান্ত।’