লিভারপুলের দুর্দান্ত কাটতে থাকা মৌসুমটা হঠাত্ করেই যেন শঙ্কার চাদরে মুড়ে গেছে। শিরোপা জয় থেকে মোটে দুটো জয়ের দূরত্বে থাকতেই করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে গেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। মৌসুমটাকে বাতিল ঘোষণা করলে লিগ না পাওয়ার আশঙ্কাও আছে অল রেডদের। তবে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড ওয়েইন রুনি জানালেন, তেমন কিছু হলে অন্যায়ই হবে কোচ য়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যদের সঙ্গে। ওয়েন রুনির মতে, লিভারপুলই চলতি প্রিমিয়ার লিগ জেতার যোগ্য দল। বাড়তি সময় নিয়ে হলেও মৌসুম শেষ করার পক্ষেও মত দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ডের সাবেক এই ফরোয়ার্ড।
করোনা ভাইরাসের কারণে মৌসুমের মাঝপথে থমকে গেছে ইউরোপীয় ফুটবল। এ কারণে প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হয়ে গেছে অন্তত ২ মে পর্যন্ত। লিগ স্থগিত হওয়ার আগ পর্যন্ত শিরোপা থেকে দুই জয়ের দূরত্বে ছিল লিভারপুল। ছয় পয়েন্ট তুলে নিলেই অল রেডদের ৩০ বছরের শিরোপা বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতেন সাদিও মানে-মোহামেদ সালাহরা। পুরো প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে একটা মাত্র ম্যাচে হারা লিভারপুল এরই মধ্যে নিজেদের প্রিমিয়ার লিগের সেরা দল হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং লিগ যদি বাতিলও হয়ে যায় তাহলে সেটা কেড়ে নেয়া উচিত হবে না বলেই মনে করেন রুনি।
বর্তমানে ডার্বি কাউন্টির অধিনায়ক রুনির ভাষ্য: ‘লিভারপুলই প্রিমিয়ার লিগ জিতবে। তারা অসাধারণ খেলছে। কঠোর পরিশ্রম করেছে তারা। এ দলটাই শিরোপার যোগ্য। ৩০ বছর অপেক্ষা করার পর এমনভাবে শিরোপা থেকে বঞ্চিত হওয়াটা কল্পনা করতে পারেন আপনি? এজন্যে সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিতে হবে।’
রুনি মনে করেন করোনার প্রকোপ শেষ হলেই লিগ মাঠে গড়াবে। আগামী মৌসুমের সঙ্গে কিছুটা সমন্বয় করে চলতি মৌসুমটা শেষ করা উচিত বলেও মত দেন তিনি। রুনি বলেন, ‘উত্তরণ, অবনমন আর চ্যামিপয়ন্স লিগের জায়গার ব্যাপারেও সঠিক হতে হবে সিদ্ধান্তটাকে। জড়িত ক্লাবগুলোর জন্যে এটা অনেক বড়ো একটা ব্যাপার।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘মৌসুমটাকে যদি স্রেফ বাতিল ঘোষণা করা হয় তবে অনেক আইনি লড়াই শুরু হবে বলে মনে হচ্ছে আমার। আর তাই ২০১৯-২০ মৌসুমটাকে শেষ করাটাই হবে সবচেয়ে ন্যায্য আচরণ। তার ফলে যদি আগামী মৌসুমটাকে হারাতে হয় তাহলেও।’ যদি চলতি বছরের শেষ পর্যন্তও সময় প্রয়োজন হয় তবুও মৌসুমের শেষ চান তিনি।
রুনির ভাষায়, ‘যদি লিগ মৌসুম শেষ হতে ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত সময় নেয় তবে এটা আমাকে মোটেও অবাক করবে না। কারণ ফুটবল অন্যান্য শিল্পের মতোই অচেনা একটা জগতে প্রবেশ করেছে। এবং অন্যান্য শিল্পের মতো একেও পরামর্শমতো চলতে হবে এবং সতর্কতা মেনে চলতে হবে। আমার মনে হয়, এ ব্যাপারটা দর্শকহীন মাঠে খেলিয়ে মৌসুম শেষ করার ধারণাটাকে বাতিল করে দেয়।’
