সফর বাতিল বাংলাদেশের

তবুও নিজেদের ভাগ্যবান মানছে পিসিবি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২১:১১

চলতি মার্চেই তৃতীয় দফায় পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু, এশিয়া জুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সব রকম খেলাধুলা যখন বন্ধ তখন আপাতত সিরিজের এই অংশটা স্থগিত করার যৌথ সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আর সিরিজ বাতিল করে ক্ষতির মুখেও পড়েছে পিসিবি।

চলতি মাসের শেষভাগে একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট খেলতে পাকিস্তান সফর করার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কোভিড ১৯ এই সফরটি ঝুলিয়ে রেখেছে। এরপরও নিজেদের ভাগ্যবানই মনে করছে পাকিস্তান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম খান এমন মন্তব্যই করলেন ক্রিকেট বিষয়ক বৈশ্বিক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে।

তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সফর বাতিল হওয়ায় পিসিবির ক্ষতির অঙ্কটা ৩০ থেকে ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। ৪০ মিলিয়ন ডলার হলে বাংলাদেশি মূল্যমানে তা প্রায় ৩৪ কোটি টাকা!

তবুও ওয়াসিম খান আছেন স্বস্তিতে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে শুধু বাংলাদেশ সিরিজেই ক্ষতি হচ্ছে আমাদের। টেস্ট ও ওয়ানডে না খেলার কারণে আমাদের ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলার ক্ষতি হচ্ছে। আশা করি এটা আমরা পুষিয়ে নিতে পারব।’

ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উপায়ও এরই মধ্যে বের করে ফেলেছে পিসিবি। খেলাধুলা বিষয়ক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল টেন স্পোর্টসের সঙ্গে পিসিবির সম্প্রচার সত্ত্বে চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। পিসিবি শিগিগরই নতুন সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেবে। সেখান থেকে বড়ো অঙ্কের আর্থিক লাভের সুযোগ থাকছে।

এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি পাকিস্তান দলে জার্সির স্পন্সরেও এসেছে পরিবর্তন। সেখান থেকেও বড়ো লাভ হয়েছে পিসিবির। ওয়াসিম খান বলেন, ‘আমাদের জার্সির স্পন্সর নির্ধারণ হয়েছে, ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ স্থগিত হলেও এখানে আমাদের ক্ষতি বেশি হচ্ছে না। একই সঙ্গে আমরা নতুন স্পন্সর খুঁজছি। আমাদের টিভি সম্প্রচার স্বত্ব শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ সিরিজটি ছিল টেন স্পোর্টসের সঙ্গে আমাদের শেষ সিরিজ। এবার নতুন কাউকে নেব আমরা।’

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় পাকিস্তান যায় বাংলাদেশ দল। খেলে আসে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট। কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি বাংলাদেশ দল। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সিরিজের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল এক এপ্রিল। আর পাঁচ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা দ্বিতীয় টেস্ট। কিন্তু, করোনা ভাইরাসে সব আয়োজন ভেস্তে গেল।