মুক্তিযোদ্ধা স্বামী ও ছেলের স্বীকৃতি চান অশীতিপর বৃদ্ধা রওশন আরা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২১:২৭

অশীতিপর বৃদ্ধা রওশন আরা বেগম (৮৮) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা স্বামী ও মুক্তিযোদ্ধা এক ছেলের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের গৌরবের স্বীকৃতি চান। মৃত্যুর আগে এই স্বজনদের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলে তিনি পরম শান্তিতে মরতে পারেন। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা রওশন আরার স্বামী আইনজীবী মরহুম আব্দুল হক মিয়া ৭১-এর ২৫ মার্চের পাকবাহিনীর গণহত্যার নির্মম কাহিনী ভারতের কলকাতার আকাশবাণী বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে সর্বপ্রথম শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরেন। আব্দুল হক ১৯৭১ সালের মে মাসে আকাশবাণী বেতার কেন্দ্রে ১০ মিনিটের সাক্ষাত্কারে যে বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন তার ধারাবাহিকতায় কয়েকটি বিদেশি পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় লেখা হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমস, লন্ডন টাইমস, গার্ডিয়ান, তাজ ইত্যাদি সংবাদপত্রে এসব লেখা প্রকাশিত হয়েছিল বলে মরহুমের ছেলে নিজাম সাইদ আহম্মদ ফারুক দাবি করেছেন। আব্দুল হক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সিরাজুল হকের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছেন বলে প্রকাশ। তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আবেদনে এসব দাবি করেছেন এবং সরাসরি দেখা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বামী আব্দুল হক ও এক ছেলে নেজামুস সেলিম ফারুকীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির অনুরোধ জানাতে চান। তার স্বামী ও তিন ছেলে মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে ও দেশে সংগঠক-যোদ্ধা হিসেবে যে অবদান  রেখেছেন মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল, সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন ও তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সামসুল আলম তালুকদার, পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী, মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের ডেপুটি কমান্ডার লুত্ফর রহমান প্রমুখের প্রত্যয়নপত্রে তার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আব্দুল হককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সাক্ষাত্কার দানের জন্য ২০১৩ সালে একবার চিঠিও দিয়েছিল। পরবর্তীকালে কোন্ এক অজানা কারণে এই  প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। তাছাড়া জামুকায় যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে তাদের নিরাশ করা হয়। আব্দুল হকের দুই ছেলে নিজাম কবির ও নিজাম সাইদ আহমেদ ফারুকী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পাচ্ছেন। তবে বড়ো ভাই নিজাম কবির মারা যাওয়ায় তার বিধবা স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর পোষ্য হিসেবে ভাতা ভোগ করছেন।