করোনা আতঙ্কে হাসপাতাল ছাড়ছেন মানুষ। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে (২৫০ শয্যা) যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিত্সাধীন থাকত, সেখানে কাগজে-কলমে ৫১ জন রোগী ভর্তি থাকলেও সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাত্র ২৮ জন রোগী হাসপাতালে রয়েছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে জানা গেছে, পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন, মহিলা ও গাইনি ওয়ার্ডে ১৪ জন, মহিলা সার্জারি ও শিশু ওয়ার্ডে ২২ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে একজন। এদের মধ্যে অনেকেই একটু সুস্থ বোধ করাতেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোমিনুল ভর্তি হয়েছেন হার্টের ব্যথা নিয়ে। ব্যথা একটু কমলে তিনি চলে যাবেন বলে জানান। শহরের গোলাম মোস্তফা জানান, স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। গাইনিবিশেষজ্ঞ কোনো চিকিত্সক নেই। আমরাও চলে যাব।
পুুরুষ ওয়ার্ডের সেবিকা নাসিমা খাতুন জানান, এক ধরনের আতঙ্কের কারণে রোগীরা হাসপাতালে থাকতে চাচ্ছেন না। যারা খুবই অসুস্থ তারাই কেবল আছেন। আমরাও আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছি। শুধু একটি মাস্ক ছাড়া নিরাপত্তার কোনো উপকরণ আমাদেরও নেই। জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, পিপিই পরিহিত অবস্থায় চার ফুট দূরত্ব থেকে রোগী দেখছেন চিকিত্সক সউদ কবির। তিনি জানান, হাসপাতালে থাকার মতো রোগীরাই কেবল আছেন। যারা সাধারণ রোগী তারা হাসপাতালে থাকছেন না। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান জানান, সবার মধ্যেই করোনা আতঙ্ক বিরাজমান। আতঙ্ক ও সচেতনতা—দুটো কারণে হয়তো হাসপাতালে রোগী কম।
