চলে গেলেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২২:৩৩

কবরের এপাড়ে বেশি আশা করতে নেই/ জানো তো/ আশার সঙ্গে ইতিহাসের বিরোধ/ শেষ হবার নয়

    —(কবরের এপাড়ে; হেমন্তের দিকে মুখ করে)

কবিতায় নিজের জীবনের দর্শন বর্ণনা করে গিয়েছেন বোরহানউদ্দিন         খান জাহাঙ্গীর। জীবনের কাছে খুব বেশি আশা তার ছিল না কিন্তু জীবনকেই তিনি দিয়ে যেতে চেয়েছেন বেশি। কবি, শিল্পসমালোচক, শিক্ষাবিদ প্রতিটি পরিচয়েই এই নিভৃতচারী মানুষটি প্রত্যাশার চেয়ে কাজকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। দেশের এই বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বরেণ্য শিক্ষাবিদ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর চলে গেলেন নীরবেই। গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তার এক ছেলে নাদিম জাহাঙ্গীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেন।

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ভাতিজা ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বিকালেই বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের মরদেহ তার জন্মভূমি চাঁদপুরের কচুয়ার গুলবাহার গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। করোনা ভাইরাসের প্রভাবের কারণেই সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব আয়োজন করা হয়নি। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর এ দেশের সাহিত্য, শিল্প, সমালোচনা, গবেষণার ক্ষেত্রে অন্যতম পথিকৃত্। চিত্রসমালোচনায় তিনি স্বকীয় অবস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। দেশের সব সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনে সব সময় তিনি ছিলেন সোচ্চার, পথপ্রদর্শকের ভূমিকায়।

১৯৩৬ সালের ৯ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্ম এ গুণী ব্যক্তির। তার বাবা আশেক আলী খান ও মা সুলতানা বেগম। কর্মজীবনে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করে ইংল্যান্ডের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন তিনি।

বাংলাদেশের সাহিত্য, গবেষণা ও সমালোচনার ক্ষেত্রে এ গুণীজনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। গবেষণা, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা ও সম্পাদিত গ্রন্থ ৭০-এর অধিক। এর স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৯ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন তিনি। এছাড়া পান ফল অব অনার, ইউনেস্কো অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অব ফ্রান্স অ্যাওয়ার্ড, মুজাফফর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার, কলকাতা (২০০৫) প্রভৃতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। 

আরো শোক জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে জেপির নেতৃদ্বয় বলেন, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির জগতে বড়ো একটি ক্ষতি হলো। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। একই সঙ্গে তার পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।