করোনা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২২:৩৫

সময়ক্ষেপণ না করে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ড. কামাল ও রেজা কিবরিয়া বলেছেন, সরকার অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে। আর ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সভায় বলা হয়েছে—লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে।

সমন্বিত উদ্যোগ দরকার :রওশন

রওশন এরশাদ তার বিবৃতিতে বলেন, জাতির এ মহাবিপদের মুহূর্তে দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক দোষারোপ না করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিষয়টিকে একটি সফল স্বাস্থ্য                 আন্দোলনে রূপ দেওয়ার কৌশল ও উপলক্ষ্য হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সরকার অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে :গণফোরাম

ড. কামাল ও রেজা কিবরিয়া যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সরকার বিষয়টি মোকাবিলায় অনেক মূল্যবান সময়ক্ষেপণ করে যত্সামান্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমিত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের কার্যকরভাবে আলাদা রাখতে ব্যর্থতার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মহামারির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ দলীয় রাজনীতির কোনো বিষয় নয়, এটি জাতীয় অস্তিত্বের বিষয়। মানুষের জীবন বাঁচাতে দ্রুত দৃঢ় ও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। দৈনিক বা সাপ্তাহিক আয়ের ওপর নির্ভরশীলদের বাঁচাতে অন্তত কয়েক মাস খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করতে তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান।

লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে :ওয়ার্কার্স পার্টি

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতোই লকডাউন, আংশিক লকডাউন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে পলিটব্যুরোর সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। স্কাইপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সভায় বলা হয়, এরই মধ্যে তিনটি মূল্যবান মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেসব ব্যবস্থার কথা বলেছে বাস্তবে তার অস্তিত্ব দেখা যায়নি। চরম সমন্বয়হীনতা সেখানে কাজ করছে। রোগতত্ত্ব বিভাগ তাদের সঙ্গে পরীক্ষার জন্য যোগাযোগ করতে হটলাইনে কথা বলতে বললেও তাদের সংযোগ পাওয়া যায় না অথবা রোগী বিদেশফেরত না বলে তাদের পরীক্ষাও করা হয় না। মিরপুরে টোলারবাগের ঘটনা তার প্রমাণ। একইভাবে একজন সাংবাদিক ও ডাক্তারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তার প্রমাণ। তাছাড়া মাত্র একটি পরীক্ষাগার দিয়ে কীভাবে এত সংখ্যক ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা হতে পারে।

সভায় আরো বলা হয়, শ্রমজীবী ও বস্তিবাসী মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় দুই সপ্তাহের খাদ্য সরবরাহ, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের সহায়তা প্রদান এবং সর্বোপরি সব নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীদের এই সময়ের জন্য দুর্যোগ ভাতা প্রদান এবং সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।