গণপরিবহন জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগ নেই

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২২:৩৯

নারায়ণগঞ্জে জীবাণুনাশক ব্যবহার ছাড়াই চলছে গণপরিবহন। এতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪ লাখ যাত্রী। কেন্দ্রীয় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে গতকাল সোমবার দুপুরে পরিবহন মালিকদের একটি চিঠি দিলেও তাতে গণপরিবহনগুলো  জীবাণুমুক্ত করার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন মালিকেরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, স্থানীয় বিআরটিএ বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ইস্যুতে এ পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি তাদের। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তরফ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত বাস ও ট্রেনে  যাতায়াত করে অন্তত ৩ লাখ যাত্রী।  শীতলক্ষ্যার ১৮টি ঘাট দিয়ে পারাপার হয় অন্তত ১ লাখ মানুষ। ফলে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা  এখানেও। পরিবহন সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি রুটে চলাচলকারী মোট বাসের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। এর মধ্যে রাজধানীর উদ্দেশে চলাচল করে চার শতাধিক বাস। দূরপাল্লার বাস রয়েছে প্রায় ২০০ এবং জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করে প্রায় ৩০০ বাস ও হিউম্যান হলার। কিন্তু করোনা নিয়ে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এক মাস ধরে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করলেও এসব গণপরিবহন জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা নেই। এমন অবস্থায়ই  ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীরা।

 এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস কেন্দ্রীয় মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন জানান, ‘আমরা সোমবার বিআরটিএর ঢাকা অফিসের চিঠি পেয়েছি। তাতে গণপরিবহন ও বাস টার্মিনাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন রাখার ব্যাপারে বলা হলেও জীবণুনাশক স্প্রে করতে হবে কি না, সে ব্যাপারে নির্দেশনা নেই। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি সিটি করপোরেশন এলাকায় হলেও তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদ্যোগ নেই। এদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ১৬ জোড়া ট্রেনের সবগুলোতে জীবণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ যাত্রীদের।

চাষাঢ়ার স্টেশনমাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কমলাপুর থেকে ট্রেনগুলোতে স্প্রে করলেও আমাদের এখানে স্প্রে করার সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি।’ এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘করোনা রোধে জেলার মধ্যে যাতায়াতকারী পরিবহনের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং বাইরে যাতায়াতকারী পরিবহন বন্ধ  করে দেওয়াই একমাত্র সমাধান বলে মনে করি।’ 

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিআরটিএ ও পরিবহন মালিকদের পরিবহন জীবাণুমুক্ত করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নৌপথের  যাত্রীদের সচেতন ও সহনশীল হতে হবে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএকে নির্দেশনা দেব, যাতে নৌকা বা ট্রলারে স্বাস্থ্যসম্মত দূরত্ব রেখেই যাত্রী পারাপার করা হয়।’ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর গতকাল থেকেই আমরা জীবাণুনাশক স্প্রে শুরু করেছি।’