উত্তরা গণভবনের গল্প

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ১৮:২৪

বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান নাটোরের লালপুরে। এখানে বিশাল এলাকা জুড়ে ‘গ্রীন ভ্যালি’ নামে একটি পার্ক গড়ে উঠেছে। কিছুক্ষণ ঘুরে দেখার পর ছুটে চললাম আমাদের মূল গন্তব্য স্থান নাটোরের দিঘাপাতিয়ায় অবস্থিত উত্তরা গণভবন ও রানি ভবানীর রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে। প্রবেশ করি নাটোরের ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবনে

  মো. আখতার হোসেন আজাদ

 

ভ্রমণ কার না ভালো লাগে! আর সে ভ্রমণে যদি নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকে, তবে তো তা পাথরে পাঁচকিল। বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের ফাঁকে মনকে একটু প্রশান্তি দিতে এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সন্ধানে গত ১২ মার্চ বনলতা সেনের স্মৃতিবিজড়িত, কাঁচাগোল্লার দেশ হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক নাটোরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিভ্রমণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা।

সকাল ৮টায় ক্যাম্পাস থেকে বাস ছুটে চললে সকলের চোখে আসে আনন্দের ঝিলিক। সমাবেত কণ্ঠে রোভার সদস্যরা ‘আমরা করবো জয়’ গানটি গাইতে শুরু করল। বাস চলছে দুরন্ত গতিতে। কিন্তু ক্যাম্পাস থেকে লক্ষ্মীপুর নামক স্থানে আসতেই সকলে থমকে গেল। দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় ট্রাকের ড্রাইভারসহ ৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত। একটি ট্রাকে ভীষণ আহত হেলপারের করুণ আর্তনাদ। ট্রাকের সামনের অংশ এমনভাবে মুচড়ে গেছে যে, তাকে বের করার কোনো উপায়ই নেই। উত্সুক জনতার ভিড়ে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে তীব্র যানজট লেগে গেছে। বাস থেকে রোভার সদস্যরা নেমে রাস্তা থেকে জনগণকে সরিয়ে দিতে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কাজ শুরু করে দিল। রোভারদের দক্ষতায় মুহূর্তেই রাস্তার একপাশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হলো। এরপর আমরা ছুটে চললাম নাটোরের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বীভত্স এমন করুণ দৃশ্য দেখে সকলে কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর আমরা পৌঁছলাম কুষ্টিয়া শহরে। আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ স্যার এবং তার সহধর্মিণী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. রাকিবা ইয়াসমিন।

 বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান নাটোরের লালপুরে। এখানে বিশাল এলাকা জুড়ে ‘গ্রীন ভ্যালি’ নামে একটি পার্ক গড়ে উঠেছে। কিছুক্ষণ ঘুরে দেখার পর ছুটে চললাম আমাদের মূল গন্তব্য স্থান নাটোরের দিঘাপাতিয়ায় অবস্থিত উত্তরা গণভবন ও রানি ভবানীর রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে। প্রবেশ করি নাটোরের ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবনে। রাজা দয়ারাম নির্মিত বিশালাকার স্থাপনাটির লাল ইটের বিশালাকার ফটকটি আভিজাত্য ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। পিরামিড আকৃতির উচ্চতর সরু প্রবেশদ্বারের ওপরে একটি ঘড়ি রয়েছে। প্রবেশ করে আমরা দেখি বিশালাকার এলাকার মনোরম পরিবেশ। ভেতরে গিয়ে আবারও জাদুঘরের জন্য ১৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলাম। সেখানে রাজসিংহাসন, খাট-পালঙ্ক, প্রাচীন চেয়ার টেবিল, বিশাল সভাকক্ষ, ডাইনিং রুম দেখলাম। পাশেই রানির শখের বাগান। বাগানের অধিকাংশ গাছ ইতালি থেকে আনা হয়েছে। তাই এ বাগানকে ইতালিয়ান বাগানও বলা হয়ে থাকে। গণভবনের প্রতিটি ভবন প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন। পূর্বে দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ী হিসেবে এ সুনিদর্শন ভবনটি পরিচিত হয়ে থাকলেও ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ রাজবাড়ীর নামকরণ করে উত্তরা গণভবন। ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দয়ারাম কর্তৃক নির্মিত ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ১৮৯৭ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে প্রায় ১ যুগ ধরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, চিত্রশিল্পী এবং কারিগরেরা এ রাজপ্রাসাদটি সংস্কার করেন।