বহু গুণে গুণী সাবরিনা শুভ্রা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ১৮:২৭

আমাদের সামাজিক আবহাওয়া সুন্দর করার নিমিত্তে কাজ করে যেতে চান। লড়াই আর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চান আমৃত্যু। এমন কোনো অনুকরণীয় কিছু করে যেতে চান যেন মৃত্যুর পরেও তার ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হয় মানুষ

  মাহবুব নাহিদ

 

তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি সৃজনশীলতায় আচ্ছন্ন করেছেন। লেখালেখি, গান, আবৃত্তি, উপস্থাপনা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, কী করেননি তিনি! নিজের আলোয় আলোকিত করেছেন চারপাশ। লিখেছেন মনের মাধুরী মিশিয়ে, তবে যতটা লিখেছেন ততটা হয়তো প্রকাশের পথে পা বাড়াননি। অনেকটা প্রচারবিমুখ এক দারুণ ব্যক্তিত্ব সাবরিনা শুভ্রা।

জন্ম তার ঢাকাতে। বাবা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং তিনিই সেখানকার প্রথম অধ্যাপক, মা ছিলেন গৃহিণী।

শহীদ আনোয়ার গার্লস থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছেন সাবরিনা শুভ্রা। ক্যান্টনমেন্টের পরিবেশে বড়ো হওয়ার কারণে ছোটোবেলা থেকে নিয়মকানুন আর বিধিনিষেধ তাকে শিখিয়ে দিতে হয়নি। শিখিয়ে দিতে হয়নি পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তিনি। তিনি ইউএসআইডির একজন সার্টিফাইড  ইয়াং লিডারশীপ ফেলো। আবার সেই ইউএসআইডির একজন কোর মাস্টার ট্রেইনার। গবেষণা করেছেন মানবাধিকার, গণতন্ত্র, বস্তির নারীদের নিয়ে।  ইউএনডিপি থেকে ট্রেনিং করেছেন ডিজাস্টার-রিস্ক ম্যানেজমেন্টের ওপরে, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-ইউএসআইডির পলিসি এজেন্ট ট্রেনিং করেছেন তিনি।

 পেশাজীবনে তিনি শিক্ষকতা করেছেন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, সাউথ এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, অতীশ দীপংকর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনি কাজ করছেন বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনে, সেখানে তিনি ডিরেক্টর হিসেবে আছেন। জড়িত আছেন ইউনিভার্সিটি অফ কুমিল্লার অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার হিসেবে।

এমন কিছুর বাহিরে তার রয়েছে একটি দারুণ জীবন। তার লেখালেখি, তার সংগীতচর্চা, আবৃত্তিচর্চা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের রয়েছে ভিন্ন একটি জগত্। তিনি অবসর পেলেই গল্প সাজিয়ে ফেলেন মাথায়। লেখেন বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই। বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখার পাশাপাশি তিনি দৈনিক আজকের অগ্রবাণী পত্রিকার অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর হিসেবে আছেন। কবিতা, উপন্যাস, ছোটোগল্প, সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখা তার বই রয়েছে ৯টি। তিনি সংবাদ পাঠ করেছেন, উপস্থাপনা করেন বেশ কিছু টিভির অনুষ্ঠান। সময় পেলে গান গাওয়ার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিও করে থাকেন। গানের অ্যালবাম রয়েছে তিনটি, কবিতার অ্যালবাম চারটি। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী।

তিনি জড়িত আছেন রক্তদানসহ নানান ধরনের সামাজিক কাজ করার সংগঠন পজিটিভ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন সোসাইটি ফর সোশ্যাল এনহান্সমেন্টের এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে আছেন তিনি।                                   

এত কিছুর সঙ্গে জড়িত থেকেও তিনি সংসারপ্রেমী একজন মানুষ। সংসারের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই তার কাছে। স্বামী সেলিমুজ্জামান সেলিম একজন ব্যবসায়ী, তিনি তার অনুপ্রেরণার অন্যতম বাতিঘর। একটি ছেলে আর একটি মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। শত ব্যস্ততা তাকে সংসারের কোনো কাজ থেকে আলাদা করে রাখতে পারে না।

মূলত দেশ ও সমাজের সেবক হয়ে কাজ করতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ সাবরিনা শুভ্রা। কলমকে তিনি মনে করেন প্রতিবাদের এক বড়ো মাধ্যম। যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে তিনি কলম তুলে নেন, কথা বলেন, প্রতিবাদ করেন। তিনি আমাদের সামাজিক আবহাওয়া সুন্দর করার নিমিত্তে কাজ করে যেতে চান। লড়াই আর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চান আমৃত্যু। এমন কোনো অনুকরণীয় কিছু করে যেতে চান যেন মৃত্যুর পরেও তার ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হয় মানুষ।