>> সাইফুল ইসলাম
ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মাত্র ১ টাকায় খাবারের ব্যবস্থা করে একসময় আলোচনায় আসে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ১ টাকার আহার কর্মসূচি। এরপর একে একে এই শিশুদের জন্য নিজ উদ্যোগে স্কুল, খেলাধুলার ব্যবস্থা করে তারা। কিছুদিন আগেই ঢাকা সিটি নির্বাচনের বর্জ্য দিয়ে তারা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় খাতা, স্কুল ও বাজারের ব্যাগ, প্যাড সহ আরো অনেক কিছু। শেষ পর্যন্ত সিটি নির্বাচনের বিশাল পরমাণ বর্জ্যের পুনঃ-ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমর্থ হয় তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ সহ পুরো বিশ্ব যখন করোনা আতঙ্কে কাঁপছে, এমন সময় সরকারি আদেশে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা মানুষগুলোর প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে এই ফাউন্ডেশনের তরুণরা। প্রয়োজনের সময় তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে খাদ্য। শুধু তাই নয়, এই কঠিন সময়ে চিকিত্সকদের জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরি, গণপরিবহন ও মসজিদে জীবাণুনাশক স্প্রে করার মতো কাজগুলো করছে তারা।
বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সবাইকে গণজমায়েত এড়িয়ে চলা সহ নানা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হচ্ছে জোরালোভাবে। তাই দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ও করোনা ভাইরাস যাতে আক্রান্ত স্থান বা ব্যক্তি হতে ছড়াতে না পারে তাই ইতিমধ্যে কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আর এই লকডাউনে থাকা বাড়িগুলোতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ঢাকা শাখার প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণ সালমান খান ইয়াছিন বলেন, লকডাউন অবস্থায় যদি কোনো পরিবার খাদ্যের সংকটে পড়েন তারা যদি বিদ্যানন্দ বা এক টাকার আহারের সাথে যোগাযোগ করে তাহলে আমরা তাত্ক্ষণিক তাদের বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দেব। তবে আমাদের অর্থ সীমিত, অনুরোধ থাকবে অপব্যবহার না করার। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের কার্যক্রমের সাথে লকডাউনের যারা থাকবে তাদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রেখেছি। কারণ এখানে প্রশাসন থেকে অনুমতির ব্যাপার রয়েছে। আক্রান্তদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পরিবহন; কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাবার পৌঁছে দেওয়া। তাছাড়া খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতিক্রমে একটি গাড়ি ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশের ডাক্তারদের জন্য তেমন কোনো পোশাক নেই। যদি ডাক্তাররাই নিরাপদ না থাকতে পারে তাহলে সেবা দিবে কেমন করে। আর সেই জন্য সংগঠনটি পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরির কথা চিন্তা করে। এরই মধ্যে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)-এর অনুমোদন পেয়েছেন। পিপিইগুলো দেশের নানান জায়গায় ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের মধ্যে বিতরণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার পিস পিপিই তৈরির লক্ষে কাজ করে চলছে সংগঠনটি।
ঢাকা শাখার প্রধান সালমান খান ইয়াছিন বলেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ গণপরিবহনে চলাফেরা করেন। গণপরিবহনে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেজন্য আমরা গণপরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ শুরু করি। আমরা বাস ও বাস স্টেশনে, রেল ও রেল স্টেশনের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ১০০ লিটার জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটিয়ে আসছি।
আমরা মসজিদে জীবাণুনাশক স্প্রে করছি। মসজিদে প্রবেশের সময় সবাইকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা এবং সচেতনতার জন্য সবার মধ্যে লিফলেট বিতরণ করি। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রতিদিন গড়ে ৭০০ মাস্ক তৈরি করে এবং তা বিনামূল্যে বিতরণ করে আসছে। মাস্কগুলো প্রথমে বিতরণ করা হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এরপর দেওয়া হয় কিছু হাসপাতালে। কেউ যদি মাস্ক নিতে চায় তাহলে ২৮ টাকার বিনিময়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রাস্তার পাশে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও করেছে এই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে। এর সদস্যরা রাস্তার পাশে বেসিন, সেনিটাইজার ও পানির ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি ছিন্নমূল মানুষগুলো যেন কোয়ারান্টাইনে থাকতে পারে সেজন্য অস্থায়ী তাবু তৈরির কাজও চলছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন কাজ করছেন জানতে চাইলে সালমান বলেন, এটা একটা যুদ্ধের মতো। ১৯৭১ সালে জন্ম হলে হয়তো এভাবেই ঝাঁপিয়ে পড়তাম। জানি জীবনের ঝুঁকি আছে। তারপরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করে যাচ্ছি। ভাগ্য খারাপ হলে আমিও আক্রান্ত হতে পারি। বেঁচে থাকলে হয়তো নিজের ছেলেমেয়েদের সাথে গল্প করব—২০২০ সালে আমিও করোনা প্রতিরোধে যুদ্ধ বা লড়াই করেছিলাম।
আসুন, ভয় নয়; সচেতনতা সৃষ্টি করি, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াই। আপনিও চাইলে কিছু অনুদান দিয়ে আমাদের সেবামূলক কাজকে এগিয়ে নিতে পারেন। ব্যাংক ও হিসাবের নাম ও নম্বর—
ডাচ বাংলা ব্যাংক, একাউন্টের নাম :Bidyanondo Foundation
একাউন্ট নাম্বার :১০৬১২০১২৪৭৯, নারায়ণগঞ্জ শাখা
