অনেকেই আছেন, এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন, ভয়াবহতার কথা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশকে নিয়ে উত্কণ্ঠার কথা জানাচ্ছেন। কিন্তু অনেকই এ নিয়ে করণীয় কী সে বিষয়ে যথাযথ মতামত ও পরামর্শ দিতে পারছেন না। আর সবার সেই সুযোগও নেই। তাই বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য গবেষক, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক, গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিতভাবে সহযোগিতা বিনিময়ের উদ্যোগ জরুরি। কারণ বিক্ষিপ্ত ও বিকৃতভাবে অনেক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা এই সময়ে জনসাধারণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আরো বিভ্রান্ত করছে। সেইসঙ্গে আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোতে গৃহীত পদক্ষেপ ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং সক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এই ভাইরাস মোকাবেলা করা সমপূর্ণই রোগতত্ত্ব ও জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিজ্ঞানভত্তিক কারিগরি বিষয়, তাই এখানে রোগতত্ত্বের আধুনিক কৌশলগত ও কারিগরি দিকগুলোই মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে নির্ধারিত হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতিমধ্যে এই ভাইরাস মোকাবেলায় বৈশ্বিকভাবে কিছু নির্দেশনা ও করণীয় নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশে রোগের প্রাদুর্ভাব অনুসন্ধান থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হলো আইইডিসিআর। কিন্তু এর বাইরেও দেশে অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ মানুষ আছেন, যাঁরা এই ক্রান্তিকালে নিজেদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের এই সংকটময় অবস্থার উত্তরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন, সেই জন্য সবাইকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেইসঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনতে হবে। বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, প্রায় সকল দেশই তার সর্বোচ্চ সকল শক্তি ও সক্ষমতা দিয়ে সেই যুদ্ধ জয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশও এ যুদ্ধে জয়ী হবে।
সুমিত বণিক
জনস্বাস্থ্যকর্মী, বান্দরবান
