ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি

তিন যুগ পেরনোর গল্প

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৫

 

৫ নভেম্ব্বর, সকাল এগারোটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি। টিএসসির ভেতরে ঢুকতেই উত্সব মুখর দৃশ্য চোখে পড়ে। লোকে লোকারণ্য টিএসসি অডিটোরিয়াম। বাইরে সবুজ মাঠে চলছে ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী। প্রদর্শিত ছবির মাঝে যেন একটাই দাবি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে নারীর গৃহস্থলী সেবামূলক কাজে চাই পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন। চাই স্বীকৃতি, মূল্যায়ন ও পুনর্বন্টন। অনুমান করা গেল ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির কোনো একটা আয়োজন চলছে নিশ্চয়ই।

কথা হলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির (ডিইউডিএস) সভাপতি এসএম রাকিব সিরাজীর সাথে। তিনি জানালেন, গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি, মূল্যায়ন ও পুনর্বন্টনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের বিতার্কিকদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাকশনএইড-ডিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উত্সব ২০১৮’ এর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা চলছে। সারাদেশকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় এই বিতর্ক উত্সব। আঞ্চলিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিত ও বক্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চূড়ান্ত পর্ব।

ডিইউডিএস’র এমন কার্যক্রম সারা বছরই চোখে পড়ে। সবসময়ই তাদের কোনো না কোনো ইভেন্ট নিয়ে ব্যস্ত  থাকতে দেখা যায়। বলা বাহুল্য ডিইউডিএস বাংলাদেশের সবচেয়ে সক্রিয় বিতর্ক সংগঠন। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার       পর থেকে ডিইউডিএস সফলতার সাথে তিন যুগ পার করে চলছে।

বাংলাদেশের বিতর্ক অঙ্গনে ডিইউডিএস নামটি সবসময়ই ‘মাদার অর্গাজাইনেশন’ হিসেবে উচ্চারিত হয়। দেশ ভাগের পূর্ব থেকে বিতর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুনাম অর্জন করে। ১৯৪৮ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি বিতর্ক দল ঢাকা সফরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাথে প্রীতি বিতর্কে অংশ নেয়। যদিও ১৯৮২ সালের পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিতর্ক সংগঠন তৈরি হয়নি। ১৯৮২ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি।  ১৯৮৮ সালে সংগঠনটির নতুন নামকরণ করা হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, সংক্ষেপে ডিইউডিএস। ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেলে ডিইউডিএস ডাকসুর অনেকটা বিকল্প হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেকোন ন্যায্য দাবিতে ডিইউডিএস সবসময় সোচ্চার থাকে।

সর্ববৃহত্ বিতর্ক সংগঠনের তকমাও রয়েছে ডিইউডিএস এর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট উনিশটি আবাসিক হলের প্রতিটিতে একটি করে হল ডিবেটিং ক্লাব রয়েছে। হল ডিবেট ক্লাবগুলো কেন্দ্রীয় সংগঠন ডিইউডিএস এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করে। এতো সংখ্যক সহযোগী সংগঠন নিয়ে অন্য কোনো ডিবেট সংগঠনের কার্যক্রম নেই। সে বিচারে ডিইউডিএস বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ বিতর্ক সংগঠন।