করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গতকাল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব ধরনের গণপরিবহনব্যবস্থা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রেল, সড়ক ও নৌচলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট। দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আগামী ১০ দিনের যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, এই ছুটিতে বহু মানুষ নির্দেশনা অমান্য করে গ্রামের বাড়ি বা নিজ নিজ জেলায় পৌঁছেছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার পরপরই বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঢাকাবাসীর বাড়ি ফেরার হিড়িক শুরু হয়। এ ছুটির সময় নিজ নিজ বাসায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই ঈদের আমেজের মতোই ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা। আর এ অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে নিজ নিজ জেলায় যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এসব মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, এ ছুটি উত্সব করার জন্য নয়, এ ছুটি বাসায় থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে।
সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ :করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল দুপুরে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রেল ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তবে তেল, খাদ্যসহ জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য সীমিত আকারে ট্রেন চলবে বলে তিনি জানান।
বাস চলাচলও সাময়িক বন্ধ :করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভিডিও বার্তায় গণপরিবহন বন্ধের কথা জানান। বার্তায় তিনি বলেন, দেশের মানুষ, যাত্রীসাধারণ, গাড়ির মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে, আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।
নৌযান ও ফেরি বন্ধ :দেশের সব রুটে গতকাল থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর খান।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, করোনার বিস্তার রোধে সারাদেশে আজ (গতকাল) থেকে যাত্রীবাহী নৌ চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পণ্যবাহী নৌ চলাচল করবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিকাল থেকে দেশের নদীবন্দরে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে লঞ্চের মালিকেরাও একমত হয়েছেন, যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকবেন। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি চলাচল গতকাল দুপুর থেকে বন্ধ করা হয়েছে।
ইত্তেফাকের বরিশাল অফিস জানায়, বরিশাল থেকে সারাদেশে সব রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। নদীবন্দর থেকে লঞ্চগুলো কীর্তনখোলা নদীর অপর প্রান্তসহ নিজস্ব ডকে নিয়ে রাখা হয়েছে।
