সব রপ্তানি খাতের করপোরেট কর হার সমান ১০ শতাংশ হারে ধার্য করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। আসছে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব করা হয়েছে চেম্বারের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সরকারের বিভিন্ন মহলে পেশ করেছে। বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছেন, সব রপ্তানি খাতে করপোরেট কর হার সমতায়ন না করে বিদ্যমান বৈষম্য বহাল রাখা হয়েছে, যা কর নীতির পরিপন্থি। রপ্তানি খাতে উেস কর শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন তিনি। প্রস্তাবনায় আরো বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে করমুক্ত আয়সীমা সাধারণত মাথাপিছু আয়ের সমান বা এর কম হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে করমুক্ত আয়ের সীমা প্রায় দ্বিগুণের মতো। করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিসিআই সভাপতি বলেন, মুজিব শতবর্ষ ২০২০-২১ এর অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। স্বাবলম্বী তরুণসমাজ গঠন করতে ‘তরুণ উদ্যোক্তা নীতি, একটি দক্ষ ও কর্মঠ যুবসমাজ তৈরি করতে প্রতি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। এজন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, বাজেটে তরুণদের জন্য পুনরায় বিশেষ তহবিল গঠন এবং সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিনা জামানতে এবং সর্বনিম্ন সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে বিশেষ করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করে এর উন্নয়নে বিশেষ শুল্ক-কর সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করা হয়। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে শতকরা ৫ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের শ্রমিক নিয়োগ করলে বিশেষ কর সুবিধা, বেজা, বিসিক ও অন্য সেক্টরে তরুণ শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ মূল্যে জমি বরাদ্দ রাখা, প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের জন্য সব ধরনের বিনিয়োগে বিশেষ কর সুবিধা, অপ্রচলিত বা নতুন পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ কর সুবিধা ও নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা, ক্ষুদ্র শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে খাত ভিত্তিক যৌথ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ডেড-ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়। যেসব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে তার একটি জরিপ পরিচালনা করতে হবে।
