করোনা ভাইরাস ঠেকাতে টানা ১০ দিনের বন্ধে গ্রামের বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন মুক্তা বেগম (২৪)। রাজধানীর ফকিরাপুলের বাসা থেকে বড়ো বোন আর শিশু ভাগনেকে নিয়ে রিকশায় চেপে বসেছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের বহনকারী রিকশাটি গুলিস্তান এলাকায় গেলে বেপরোয়া গতির বাস তাতে ধাক্কা দেয়। এতে তিন জনই ছিটকে পড়লে বাসের চাকা উঠিয়ে দেওয়া হয় মুক্তার ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। ঐ দুর্ঘটনায় আহত এক বছরের ভাগনে সাব্বিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বড়ো বোন সাবিনা বেগম বলেন, তারা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বাসার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সামনে ১০ দিনের বন্ধের কথা শুনে তারা দুই বোন বাড়ি যেতে রিকশায় সদরঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। গুলিস্তান আহাদ বক্সের কাছে গেলে একটি বাস রিকশাটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তিনি ও বোন মুক্তা ছিটকে পড়েন। বোনের কোলে থাকা তার (সাবিনার) শিশু সন্তানও রাস্তায় পড়ে যায়। চোখের সামনেই বাসটির চাকা বোনকে থেঁতলে দেয়। তাদের উদ্ধারকারী পল্টন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, গ্রীনবাংলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রিকশাটিকে ধাক্কা দিয়েছিল। রাস্তা ফাঁকা থাকায় বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলার কারণে ঐ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
