সবাই জেগে উঠুন

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২০, ২১:৪৪

সিগারেট বা বিভিন্ন নেশা যারা করে শুধু তারাই নয়, আশেপাশে যারা থাকে, তারাও ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীর পাশে যদি কেউ নাগাড়ে ধূমপান করে, তাহলে ভ্রূণের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু বিকলাঙ্গ সদ্যোজাতের ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গেছে, হবু মা নিজেই ধূমপান করতেন। ইদানীং শহর-গ্রামাঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বেড়েছে। ক্যানসার গবেষকরা সমীক্ষা চালিয়ে দেখিয়েছেন, ভয়ানক ডি-জেনারেটিভ ব্যাধিতে যত লোকের মৃত্যু হয়, তার একটা বড়ো অংশই তামাকজাত নেশার কারণ। সুতরাং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত, আইন করে তামাকজাত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে লাগাম টেনে ধরা। সরকারি অফিস থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ করা। প্রতি জেলা-উপজেলায় এই ক্ষতিকর পণ্য বিক্রি বন্ধের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিমণ্ডলে রাখতে হলে তামাকজাত নেশা থেকে তাদের দূরত্ব ও নিরাসক্তি বাড়াতেই হবে। সে কারণে বিষয়টিকে শুধু আইনে রাখলে চলবে না, উদ্যোগী হতে হবে গণআন্দোলনে রূপ দিতে। তামাকজাত পণ্যের নেশা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একজন মানুষ যদি তার পাশের মানুষটিকে নেশামুক্তির সুযোগ করে দেন, তবে বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থেই আরো বাসযোগ্য হবে। দীর্ঘায়ু লাভ করবে আমাদের প্রিয়জন। তামাকজাত নেশা বর্জনে বন্ধুর দায়িত্ব ও সহযোগিতা তাই এত গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিকল্প।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা