তিন তালাক নিয়ে ভারতীয় লোকসভায় বিতর্ক

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৩

মুসলিম নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রণীত 'তিন তালাক' বিল নিয়ে ভারতীয় লোকসভায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলে পক্ষে-বিপক্ষের তর্ক-বিতর্ক। লোকসভার সদস্যরা পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন।
 
আইনমন্ত্রী রবি সংকর প্রসাদ বলেন, 'কোন রাজনৈতিক স্বার্থে নয় বরং নারীদের অধিকার এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠায় তিন তালাক বিল বিবেচনা করা হয়েছে। এ বিলে মুসলিম পুরুষদের তাৎক্ষণিক তালাকের অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি কারাদণ্ড ধার্য করা হয়েছে। বিলটি কোনো রাজনৈতিক মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা উচিৎ নয়। বরং মানবতা এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই এই বিল।'

তিনি আরও বলেন, 'বিশ্বের আরো ২০টি দেশে তিন তালাককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ভারত কেন তা পারবে না! আমি অনুরোধ করবো, এই বিলটিকে রাজনৈতিকভাবে না দেখার জন্য।'

কংগ্রেস সভাপতি মালিকার্জুন খার্জ বলেন, 'বিলটির কয়েকটি ধারা সংবিধান পরিপন্থি। বিলটিকে পূনঃবিবেচনার জন্য যৌথ কমিটি নির্ধারণ করা উচিৎ।'

তিনি ছাড়াও পী ভেনুগোপাল, সুদ্বীপ বন্দোপাধ্যায়, আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং সুপ্রিয়া শীল একইরকম দাবি করেন।

লোকসভা স্পিকার সুমিত্র মহাজন বলেন, 'এর আগেও লোকসভায় প্রায় একই রকম একটি বিল নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। পাশ হয়েছে। তাই এই বিল নিয়ে আলোচনার সময় সদস্যরা কিছু বিষয়ে আপত্তি তুলতেই পারেন। তাই বলে একটি দাবির ওপর ভিত্তি করে কোনো বিলকে কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা যায় না।'

কংগ্রেস সাংসদ সুমিত্র দেব বলেন, 'নারীর ক্ষমতায়নের নামে আপনারা (সরকার) হয়রানী মামলার পথ ছাড়া কিছু করছেন না। আমার মতে, এই বিলের লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন নয়। বরং মুসলিম পুরুষদের হয়রানী করাই এর লক্ষ্য।'

তৃণমূল কংগ্রেসের সুদ্বীপ বন্ধ্যোপাধ্যায় বলেন, 'সকল বিরোধী দলের মতো আমরাও চাই, বিলটিকে পুনঃবিবেচনার জন্য কমিটির কাছে পাঠানো হোক।'

বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক পার্টির এন কে প্রেম চন্দন বলেন, 'বিলটিতে একটি সামাজিক অপরাধকে দণ্ডবিধির আওতায় আনা হচ্ছে। যে কারণে এটি আইনত ত্রুটিসম্পন্ন। তাই এটিকে কমিটির কাছে পুনঃবিবেচনার জন্য পাঠানো উচিৎ।'

আরও পড়ুনঃ ‘ভোট বিপ্লবের’ ডাক ড. কামাল হোসেনের

বিজেপির মিনাক্ষী লেখী বলেন, 'যারা তিন তালাক বিলটির বিরোধীতা করছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আল-কোরআনের কোন সূরায় তালাক-ই-বিদআতের কথা উল্লেখ করা রয়েছে? এটি নারী বনাম পুরুষজনীত কোন সমস্যা নয়। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ক একটি সমস্যা।'

ইত্তেফাক/দিপু/নূহু