ন্যাচার পাবলিশিং গ্রুপ-এর মতো বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত গবেষণা পত্রে নিয়মিত কাজ প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মাহাদী রহমান এবং ছাত্র-ছাত্রীরা।
সম্প্রতি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসাথে করা গবেষণার কাজ প্রকাশ পেয়েছে ‘অপটিক্স কমিউনিকেশন’ ও ‘দ্যা জার্নাল অফ ফিজিক্যাল কেমেস্ট্রি সি’-এর মতো গবেষণাপত্রে। ২০১৮ সালে ফিজিক্স এ নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ আর্থার আশকিন নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন অপ্টিকাল মেনিপুলেশন এবং অপ্টিকাল টুই জার টেকনিকের আবিষ্কার এর জন্য। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মাহাদী রহমানের রিসার্চ গ্রুপটি অপ্টিকাল মেনিপুলেশনেরই অত্যন্ত আধুনিক সমস্যা নিয়ে গবেষণা করছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর থেকে পিএইচডি শেষ করেই এই গবেষক যোগ দিয়েছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে ২০১৭ এর শুরুতে। এসেই স্নাতক পর্যায়ের কিছু তরুণ ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু করেন ‘এনএসইউ অপটিক্স এন্ড ফটোনিক্স গ্রুপ’। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ৬৪ জিবি র্যামের মেমরীর একটা কম্পিউটার নিয়েই রিসার্চের কাজে লেগে গিয়েছিলেন তিনি তার ছাত্রদের নিয়ে। একটি মাত্র কম্পিউটার দিয়েই রিসার্চের কাজ করে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন সিঙ্গাপুর, চীন ও আমেরিকার গবেষকদের সাথে ন্যাচার পাবলিশিং গ্রুপের ‘লাইটঃ সায়েন্স এন্ড এপ্লিকেশন্স’ এবং ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে’। পাশাপাশি তিনি আরো প্রকাশ করেন: এসিএস ন্যানো, এপ্লাইড ফিজিক্স লেটার, এনাল্যান্ডার ফিজিক্স এবং অপটিক্স কমিউনিকেশনের মতো বিখ্যাত সব গবেষণাপত্রে।
শুধু নিজে গবেষণা করেই ক্ষান্ত ছিলেন না, কেবল অদম্য ইচ্ছে থেকেই কাজ শুরু করা এবং গবেষণার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বিহীন তরুণ এবং অনেক কম বয়সী ছাত্রছাত্রীদের কাজ শেখানো ও বুঝানোর দায়িত্ব নিজের ঘাঁড়ে তুলে নেন।
ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। শুধুমাত্র নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীই না, বরং বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু তরুণ ছাত্রছাত্রী গবেষণার কাজ করে যাচ্ছেন তার নেতৃত্বে। গত সাত বছরে এখনো পর্যন্ত তিনি প্রকাশ করেছেন ২২টি উচ্চ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরের গবেষণাপত্র যার অনেকগুলোতেই বুয়েটের তরুণরা কাজ করেছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরে সে তার ছাত্রদের সাথে ৯টি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফেলেছেন গত দেড় বছরের একটু বেশি সময় এ।
সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পাস করে রিসার্চ এসিট্যান্ট হিসেবে যোগ দেওয়া হামিম মাহমুদ রাইভী বলেন ‘এখানে আমাদের কোনো তত্ত্বীয় গবেষণার সংস্কৃতি ছিল না, এমনকি আমরা কোনো সিনিয়র ভাইদের সহযোগিতাও পাইনি। প্রথম প্রায় ছয় মাসেও কোনো ফলাফল আলোর মুখ দেখেনি আমাদের। কিন্তু আমরা লেগে ছিলাম, কখনো আশাহত হইনি। আমি মনে করি এটাই আমাদের সাফল্যের মূল কারণ।
ইউরোপ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উন্নতমানের পরীক্ষাগারে আছে, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তাও তারা পায়। আর এই বড় মাপের গবেষণার কাজগুলো সম্পন্ন হয় পিএইচডি ছাত্র এবং পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চদের দিয়ে। এতো উচ্চ সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্কুলের শিক্ষকরা ক্রমাগত আন্তর্জাতিকমানের গবেষণাপত্রে তাদের গবেষণা কাজ প্রকাশ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণা সাফল্য সকলের কাছে অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে থাকার মতো।
