বিভাগীয় নগরী সিলেট। যানজটে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। সেই শহর এখন কোলাহলমুক্ত। সব থেমে আছে করোনা ভাইরাসের ভয়ে। করোনার প্রভাব পড়েছে ডাক্তার পাড়াতেও। সিলেট স্টেডিয়ামের অধিকাংশ প্রাইভেট ডাক্তার রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। বাধ্য হয়ে রোগীরা ভিড় করছেন ফার্মেসিতে। ওষুধ বিক্রেতারা রোগীদের প্রাথমিক চিকিত্সা দিচ্ছেন।
এদিকে এখন কোনো মৃত্যুর সংবাদ শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হন। বিশেষ করে গত রবিবার ভোরে সিলেট নগরীর শহিদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারী মারা যাওয়ার পর থেকে আতঙ্ক আরো বেড়েছে। যদিও মৃত্যুর পর আইইডিসিআর জানায়, ঐ মহিলার মধ্যে করোনা ছিল না। তবে তার মৃত্যু ও কারণ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন—সিলেটে করোনা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলে তাকে হয়তো নি:সঙ্গ অবস্থায় মারা যেতে হতো না।
এদিকে নগরীর হাউজিং এস্টেটে গিয়াস উদ্দিন (৬৫) নামের এক ব্যক্তি মঙ্গলবার রাতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা গেছেন। তিনি কিডনির জটিল রোগে ভুগছিলেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পর ঐ বৃদ্ধকে নগরীর হযরত মানিকপীর (র.) কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের বরাত দিয়ে কাউন্সিলর কয়েস লোদী জানান, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তিনি অনেকটা বিনা চিকিত্সায়ই মারা গেছেন।
এখন অন্তত ৩০ হাজার আগত প্রবাসীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রশাসন ও সিলেটবাসী। তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বললেও তারা নিষেধ মানছেন না। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা হচ্ছে।
চিরচেনা ব্যস্ততম জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্রা, তালতলা, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, রিকাবীবাজার, নাইয়রপুল, শিবগঞ্জ, উপশহর, ক্বিন ব্রিজ, দক্ষিণ সুরমা, কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, কুমারগাঁও বাস টার্মিনালের চিরচেনা দৃশ্য পালটে গেছে। সব মার্কেট, বিপণিবিতান বন্ধ। বুধবার নগরীর কোথাও ঠেলাগাড়িওয়ালা সবজিওয়ালা দেখা যায়নি।
