বগুড়ায় পাওয়া যাচ্ছে না কিছু নিত্য দরকারি ওষুধ!

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২০, ২১:৪৮

বগুড়ায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার-মাস্কের পর এবার  রাতারাতি বাজার থেকে উধাও জ্বর, সর্দি, কাশি, ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের চিকিত্সায় ব্যবহূত প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিন, টোফেন ও সিভিটের মতো ওষুধ। বাজারে মিলছে না কিছু এন্টিবায়োটিকও। মিলছে না শ্বাসকষ্টের রোগীদের মনটিলুকাস্ট ট্যাবলেট ও দরকারি ইনহেলারও। বাজার থেকে  দরকারি  এসব ওষুধ উধাও হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন  রোগী ও স্বজনরা। বগুড়ার ওষুধের খুচরা ও পাইকারি  দোকান ঘুরে এবং চিকিত্সক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ সংকটের এই চিত্র মিলেছে।

মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া থেকে শুরু করে মফিজপাগলার মোড় ও সাতমাথায় কবি নজরুল ইসলাম সড়কের ওষুধের খুচরা দোকান ঘুরে কোথাও নামিদামি কোম্পানির প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিন, সিভিট ও কয়েক ধরনের এন্টিবায়োটিক মিলেনি। এসব ওষুধ কেনার জন্য দোকানে দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন রোগী-স্বজন ও ক্রেতারা। ওষুধ সংকটের একই চিত্র বগুড়ার মিডফোর্ডখ্যাত শহরের খান মার্কেট, নদী বাংলা কমপ্লেক্স এবং ঝাউতলা এলাকার পাইকারি দোকানগুলোতেও। শহরের মফিজপাগলার মোড়ে লাজফার্মায় একজন দন্ত চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বুধবার সকালে ওষুধ কিনতে এসেছিলেন দুপচাঁচিয়া জিয়ানগর এলাকার সুরুজ আলী (৬০)। বিক্রয়কর্মী ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়েই বললেন, প্যারাসিটামল, ভিটামিন সি ট্যাবলেট ও এজিথ্রুমাইসিন সরবরাহ নেই। লাজফার্মা থেকে বেরিয়ে পাশের বাবু মেডিক্যাল স্টোরসহ আশপাশের আরো তিনটি দোকান ঘুরে এসব ওষুধ না পেয়ে সুরুজ আলী বলেন, দাঁতের ব্যথা নিয়ে চিকিত্সকের কাছে এসেছিলাম। সঙ্গে জ্বরও রয়েছে। এখন চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দোকানে দোকানে ঘুরেও ওষুধ মিলছে না।

বাবু মেডিক্যাল স্টোরের বাবু মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় লোকজন প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিন, সিভিটসহ কিছু এনটিবায়োটিকের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। অথচ এসব ওষুধ চাহিদানুযায়ী কোম্পানিগুলো সরবরাহ করতে পারছে না। আবার পাইকারি মার্কেটেও মিলছে না।

মার্কেটে ওষুধ কিনতে আসা ঠনঠনিয়া এলাকার একজন খুচরা দোকানি বলেন, উত্তরবঙ্গে ওষুধের সবচেয়ে বড়ো পাইকারি বাজার বগুড়া। সেখানে করোনা ভাইরাস সংকট দেখা দিতে না দিতেই রাতারাতি দোকানগুলো ওষুধ শূন্য হওয়ার কথা নয়। এটা অসাধু ব্যবসায়ীদের কৌশল। সিভিট, প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ বেশি দাম দিলেই পাইকারি দোকানে তা মিলছে।

বেশ কিছু ওষুধের সংকটের কথা স্বীকার করলেও ব্যবসায়ীদের কারসাজির অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন  ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক  মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় লোকজন চাল-ডাল নিত্যপণ্যের মতোই ওষুধের দোকানে দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। গত চার দিন ধরে খুচরা ও পাইকারি দোকানে ওষুধ কেনার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে। একপাতা প্যারাসিটামলের জায়গায় ১০ পাতা কিনছেন। ১০টি সিভিট ট্যাবলেট দরকার হলে কিনছেন এক বক্স।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বগুড়ার সিনিয়র মেডিক্যাল প্রোমোশন অফিসার আবদুল কাইয়ুম বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সিভিট, এইচ, জিম্যাক্সসহ কয়েকটি ওষুধের চাহিদা হঠাত্ করে ছয় থেকে সাতগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদানুযায়ী ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা চলছে। খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রির বিষয়টি জানা নেই।

বগুড়ার সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে বাজারে বেশ কিছু ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি। বগুড়ার ওষুধের বাজার অনেক বড়ো। রোগী বা স্বজনরা ওষুধ মজুত করছেন এমনটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটা ব্যবসায়ীদেরও কারসাজি হতে পারে। ওষুধের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর  সহযোগিতা চাওয়া হবে।