এ যেন এক অঘোষিত হাশরের ময়দান
—ড. মুহাম্মদ আব্দল কাদির
চেয়ারম্যান, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
করোনা ভাইরাস বিশ্ব মানবতাকে পর্যুদস্ত করে ফেলেছে। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, সহধর্মিতা, কল্যাণকামিতা সব যেন আজ ভুলুণ্ঠিত। না পারছে কোনো স্বজনের সাহায্য করতে, আর না পারছে কোনো সহযোগিতা করতে। এ যেন এক অঘোষিত হাশরের ময়দান। সকলের মনেই শুধু ইয়ানাফসি আর ইয়ানাফসি। স্বজনের মৃত্যুতে জানাজার নামাজটুকু পর্যন্ত পড়তে পারছে না।
আসুন, আমরা সকলে মিলে অতীত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করি, তাকদিরে বিশ্বাস রাখি, এ মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচার জন্য বেশি বেশি করে আল্লার কাছে দোয়া করি, হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করি। আমরা সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়েদুল এস্তেফারটা পড়ি। আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন।
সাইয়েদুল এস্তেগফার : আলল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা খলাকতানী, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা মাসতাতা’তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা ছনা’তু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ লাকা বিজানবী, ফাগফিরলী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজজুনুবা ইল্লা আনতা।
অর্থাত্ : হে আল্লাহ তুমিই আমার রব। তুমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার গোলাম। আমিসাধ্য তোমার দেওয়া ওয়াদা পালনে বদ্ধপরিকর । আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ঠ থেকে তোমার নিকট পানাহ চাই। আমর ওপর তোমার দেওয়া নেয়ামতের কথা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি ছাড়া ক্ষমা করার যে আর কেউ নাই।
এ সময় বেশি বেশি দোয়াকালাম পড়ি
—মো. আবু তালহা তারীফ
খতিব, রোহিতপুর বোডিং মার্কেট জামে মসজিদ, ঢাকা
আসুন প্রথমেই পড়ে নেই ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সায়্যিইল আসকাম’, অর্থ হচ্ছে, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, মস্তিষ্ক বিকৃতি, কুষ্ঠ এবং সব দুরারোগ্য ব্যাধি হতে।’
উপরোক্ত দোয়াটি সুনানে আবু দাঊদ শরীফে রয়েছে। হজরত আনাস (রা) বলেছেন, কঠিন রোগব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য নবিজি (স) এ দোয়াটি বেশি পড়তেন। আসুন এখন থেকে সবসময় দোয়াটি পড়তে থাকব। পাশাপাশি আমরা সকাল-সন্ধ্যায় কিছু সুরা আছে, যেগুলো পাঠ করলে আল্লাহ আমাদের সুরক্ষা করবেন। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস (কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ...), সুরা ফালাক, সুরা নাস প্রত্যেকটি তিন বার করে পাঠ করবে তবে তা পাঠকারীর জন্য সবকিছুর ক্ষতি থেকে যথেষ্ট হয়ে যাবে। (আবু দাউদ)
তিরমিজি শরীফে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ গৃহ থেকে বের হওয়ার সময় বলবে ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়ালা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, অর্থাত্, ‘আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে ফেরা এবং পুণ্য করা সম্ভব নয়, তাকে বলা হয়, তোমাকে সঠিক পথ দেওয়া হলো, তোমাকে যথেষ্টতা দান করা হলো এবং তোমার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলো। আর শয়তান তার নিকট থেকে দূরে সরে যায়। প্রিয় নবী (স) বলেছেন, কোথাও গিয়ে এ দোয়া পড়লে আপনি সেখানে যতক্ষণ থাকবেন ঐ জায়গার কোনো ক্ষতিকর কিছু আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না। দোয়াটি হলো—‘আউজু-বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’ অর্থাত্, ‘আমি আল্লাহর নিকট পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের উসিলায়; তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, সে সবের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।’ (সহিহ মুসলিম)
ফতোয়ার কিতাব ফতোয়ায়ে শামীতে এসেছে—‘কাফের, মুশরিক ও জালেমদের পক্ষ থেকে কিংবা আসমানি কোনো বিপদ-আপদ আসলে কুনুতে নাজেলা পড়া উচিত। এবং নিরাপত্তা ও সুস্থতার উদ্দেশ্যে এ দোয়া পড়া যেতে পারে। দোয়াটি হলো— ‘আল্লাহুম্মাহদিনি ফি মান হাদাইতা, ওয়াফিনি ফি মান আফাইতা, ওয়াতাওয়াল্লানি ফি মান তাওয়াল্লাইতা, ওয়া বারিকলি ফি মা আতাইতা, ওয়াকিনি শাররা মা কাদাইতা ফাইন্নাকা তাকদি, ওয়ালা ইউকদি আলাইকা, ওয়াইন্নাহু লাইয়াজিল্লু মান ওয়ালাইতা, ওয়ালা ইয়াইজ্জু মান আদাইতা, তাবারাকতা রাব্বানা ওয়া তা আলাইতা।’
