বগুড়ায় কথিত এক পীরের আস্তানায় চলা উরস মাহফিল বন্ধ করার কথা বলায় মারপিটের শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পীরের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাবেক পৌর কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু ও শফিকুল ইসলাম নয়নসহ ওই পীরের ২৪ মুরিদকে আটক করেছে।
গত বুধবার রাতে শহরের গোয়ালগাড়ীতে শাহসুফি হজরত মাওলানা ছেরাজুল হক চিশতির (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ পরিদর্শক নান্নু খান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করে ওই পীরের আস্তানায় বার্ষিক উরস মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বুধবার দুপুরের পর থেকে সেখানে বিভিন্ন এলাকার নারী ও পুরুষ মুরিদেরা আসতে শুরু করেন। সেখানে গরু জবাই করে রান্নার আয়োজনও করা হয়। এমতাবস্থায় উরস মাহফিল বন্ধ রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক দফা অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু উরস বন্ধ না করে সন্ধ্যার পর আস্তানায় নারী-পুরুষরা সম্মিলিতভাবে জিকির শুরু করে। এলাকার লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাত ৯টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু খানসহ তিনজন পুলিশ সেখানে গিয়ে উরস বন্ধ করতে বলেন। এতে পীরের অনুসারীরা দুই পুলিশকে তাদের আস্তানায় আটকে রেখে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ২৪ জনের নামে মামলা হয়েছে। তাদের জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।
