সকল কাজের কাজি

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৬

 

 

আত্মবিশ্বাস অনেকটা ধারালো তলোয়ারের মতো। যারা নেতৃত্ব দেন তাদের মধ্যে এ গুণটি দেখতে আমরা ভালোবাসি। তবে ভারসাম্যপূর্ণ আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা সত্যিই একটি বিরল গুণ। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আবার স্বল্প আত্মবিশ্বাস খুব একটা গুরুত্বও পায় না। আর সবজান্তা হাবভাব তরুণদের জন্য সবসময়ই ক্ষতিকর।

‘আরে না না, আমিই জানি। আমার থেকে তুই কি বেশি জানিস?’ ঠিক এমন হাবভাবের অনেক তরুণ আছে আমাদের চারপাশে। যারা মনে করেন, তার চারপাশের মানুষগুলোর চেয়ে তিনি বেশি জানেন বা তিনিই সবচেয়ে বেশি বিচক্ষণ, তার মতো বুদ্ধিমান মানুষ আর হয়ই না। তরুণদের মাঝে এই প্রবণতা ইদানীং বেশি দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অনেক সময়ই তাদের নানা রকমের দুর্বিপাকে ফেলে। এই অদ্ভুত রকমের আত্মতুষ্টিতে ভোগা তরুণদের জন্য রইল এবার কিছু পরামর্শ। মূলত আত্মবিশ্বাসী লোকজন অন্যের কথা শোনে, বিষয়টি নিয়ে ভাবে এবং বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেয়। আপনার মধ্যে কোনো ব্যাপারে মারাত্মক আত্মবিশ্বাস কাজ করতে পারে, আবার কোনো ব্যাপারে আপনি হয়তো মোটেও আত্মবিশ্বাসী নন। নিজের পছন্দ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে যথাযথ আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাটা খুবই জরুরি। নয়তো পথের মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হবে আপনাকে। তাই নিজেকে খুঁটিয়ে দেখুন আর সেই অনুযায়ী পরিবর্তন আনুন নিজের মধ্যে।

মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ

n আপনি বিশ্বাস করেন, আপনি সবার চেয়ে দক্ষ ও মেধাবী। বাকি সবাই এক ধরনের মূর্খ, যারা একটি নির্দিষ্ট চিন্তায় নিজেদের আবদ্ধ করে রেখেছে।

n অনেক সময় আপনি ক্লাস বা বন্ধুদের আড্ডার স্থলে আপনার পা ডেস্কের ওপর তুলে বসেন। তবে সব ক্ষেত্রে না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার এই পা তুলে বসাটার মাঝে অনেক বেশি দাম্ভিকতা থাকে।

n অনেক সময় দেখা যায়, কথা বলার সময় আপনি অনেক উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছেন, কারণ অনেক কথার মাঝে আপনি নিজের গলার শব্দ শুনতে খুব ভালোবাসেন।

n কথা বলার সময় নিজের শক্তিশালী দিকগুলোকে বাড়িয়ে দেখান এবং যদি নিজের কোনো দুর্বলতা থাকে সেটা অস্বীকার করেন।

n অনেক সময় দেখা যায়, আপনার কথা কেউ শুনল বা না-শুনল সে ব্যাপারে আপনার কোনো মাথাব্যথা নেই, আপনি আপনার কথা বলেই যাচ্ছেন, ধরেই নিয়েছেন প্রত্যেকে আপনার কথাই ভাবছে।

n কারো সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের সময় তার কথা খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে নিজেই বলে যান সমানে বা তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার সময় তার আঙুল গুঁড়িয়ে দিতে পছন্দ করেন আপনি।

n অন্য ব্যক্তির মতামতকে খুব বেশি মূল্যায়ন করেন না বা অন্যের মতামতকে এক প্রকার অবজ্ঞা করা আপনার অনেকটাই অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে বা অন্যদের মতামত সম্পর্কে জানতে কখনোই আপনি আগ্রহী হন না।

n সবসময় নিজেকে সবার সামনে উপস্থাপন করার একটি অহেতুক ইচ্ছা আপনার রয়েছে বা নিজেকে লাইমলাইটে আনার সুযোগটা কখনোই মিস করতে চান না আপনি।

n যদি কেউ আপনার ভুল যুক্তির সংশোধনের জন্য সঠিক যুক্তিটি উপস্থাপন করে তাহলে তাকে মিথ্যা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এ ব্যাপারে যা করতে পারেন

n নিজের অবস্থান সম্পর্কে সজাগ থাকুন।

n নিজের কথার ভলিউমটাকে অ্যাডজাস্ট করুন, কম শব্দে কথা বলার চেষ্টা করুন।

n কথা বলার সময় দেখুন, কোনো কারণে নিজেকে অনেক বেশি দাম্ভিক মনে হচ্ছে কি না বা আপনার চেহারায় তা ফুটে উঠছে কি না।

n কারো সঙ্গে কথা বলার সময় আরাম করে বসুন এবং মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনুন। অন্যকে কথা বলার সুযোগ দিন এবং তাকে বিরক্ত না করেই শুনুন।

n কথা বলার আগে থামুন। মুখ ব্যবহারের আগে মাথাটা খাটান।

n আপনার দৃঢ় উক্তির পিছনে পর্যাপ্ত তথ্য আছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন।

n শান্ত ব্যক্তিত্বের লোকজন কীভাবে কাজ করছে সেটা দেখুন।

n বাজে সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমাতে পারেন অভিজ্ঞজনের সঙ্গে পরামর্শ করে।

n অন্যদের ওপর আপনার ইফেক্টকে বুঝতে বারবার ফিডব্যাক নিন।

n স্বীকার করুন আপনারও ভুল হতে পারে—এটা শক্তির লক্ষণ, দুর্বলতার নয়।

n উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আপনার নিজের কাজের বিচার করুন।

n হাসুন। অন্যদের রিলাক্স হতে সাহায্য করুন।