শিক্ষার্থীর চিঠি

গণরুমের কথা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৮

 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নবীন শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ সময়ে স্বাধীনতা হীনমন্যতায় ভোগে। তার একমাত্র কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম নামক জেলখানা। এই জেলখানায় বন্দি থাকে এক সাথে অনেক শিক্ষার্থী। এই গণরুম হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসস্থল। একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক রঙ্গিন স্বপ্ন নিয়ে আসে। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থী গণরুম নামক জেলখানার কবলে পড়ে নিজেদের স্বপ্নের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। গণরুমে এক সাথে ফ্লোরিং করে অনেক শিক্ষার্থী থাকে। গ্রাম থেকে আসা নবীন শিক্ষার্থীরা  হঠাত্ করেই গণরুমের খারাপ পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে না। এই কারণে তাদের প্রথম বর্ষের জীবনটা হতাশার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ সাধনে গণরুম বাধাগ্রস্ত করে। বিভিন্ন সময় গণরুমে অনেক শিক্ষার্থী একসাথে থাকার কারণে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা পর্যন্তও ঘটে। এ ছাড়াও গণরুমে অনেক নেশাখোর শিক্ষার্থীও থাকে। এতে নেশাখোর বন্ধুদের প্ররোচনায় পড়ে বা কৌতূহলবসত একজন ভালো শিক্ষার্থীও নেশার গভীরে ঢুকে যেতে পারে। এই গণরুম থেকে শত শত শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট হওয়ার মর্মান্তিক গল্প রয়েছে। গণরুমে থাকে না পড়াশুনা করার জন্য অনুকূল পরিবেশ। গণরুম জীবন অনেক কষ্টের। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে কেনো একজন শিক্ষার্থীকে এতো কষ্ট করে থাকতে হবে তার উত্তর আমার জানা নেই। সব মিলিয়ে গণরুম জীবন একজন শিক্ষার্থীর জন্য অভিশাপস্বরূপ। তাই শিক্ষার্থীদের গণরুমের ভয়াবহ জীবন থেকে রক্ষা করে উন্নত জীবন গঠনের তাগিদে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য গণরুম সংস্কৃতি যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করা হোক। এতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নত মান বজায় থাকবে। আমরা যদি সেরাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও গড়ে তুলতে হবে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ। গণরুম সংস্কৃতি নিপাত যাক, শিক্ষার্থীরা মুক্তি পাক।