অবশেষে হাত বাড়ানো মানুষের চেষ্টায় বাড়ির পথ খুঁজে পেয়েছেন ও’ব্রায়েন। অবসরের পর সাদামাটা জীবন যাপন করছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ফাস্ট বোলার ইয়ান ও’ব্রায়েন। ইংল্যান্ডের ম্যাটলকে দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে কাটছিল জীবন। এর মধ্যে বাবা-মাকে দেখতে গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। আর সেই থেকেই হঠাত্ করে এলোমেলো হয়ে গেল ও’ব্রায়েনের জীবন।
করোনা ভাইরাস ঠেকাতে জারি হওয়া লকডাউনের মধ্যে আটকে গেলেন তিনি। ওদিকে শ্বাসকষ্টের রোগী স্ত্রী দুই মেয়েকে নিয়ে ঘোর বিপদে। আর ও’ব্রায়েন এপথে-ওপথে ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে কপর্দকশূন্য। এই অবস্থা থেকে বের হওয়াটাই কঠিন ছিল।
ও’ব্রায়েন প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে ওঠার কিছুদিন আগে বাবা-মাকে দেখতে গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন। কিন্তু ফেরার আগের দিন লকডাউন হয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ কেটে যে টিকিটের টাকা ফেরত পেলেন, তা খুব সামান্য। এর মধ্যে আরো দুবার টিকিট কাটার চেষ্টা করলেন। এই টিকিট করতে গিয়ে শেষ হয়ে গেল তার ফেরার জন্য নিয়ে আসা টাকা।
আবার বাড়িতে স্ত্রীর কাছেও এমন কিছু টাকা ছিল না, যেটা পাঠাবেন। বাবা-মাও এ ক্ষেত্রে অসহায়। ও’ব্রায়েন কী করবেন বুঝতে না পেরে অনলাইনে নিজের অবস্থা খুলে বললেন। বিশেষ করে ফুসফুসের রোগী স্ত্রীর কথাটা বললেন সবাইকে, ‘এই ভাইরাস ওকে মেরে ফেলবে। আমার ওর কাছে ফিরে যেতে হবে। আমার ওকে নিরাপদ রাখতে হবে।’
লোকেরা ও’ব্রায়েনকে বুদ্ধি দিল তহবিল সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এভাবে মানুষের কাছ হাত পাততে আবার আপত্তি তার। অবশেষে একটা বুদ্ধি বের হলো। তিনি মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেবেন, কিন্তু তার বিনিময়ে ভিডিও কলে অর্থ দেওয়া লোকদের কিছু টিপস দেবেন।
ও’ব্রায়েন বললেন, শুধু ক্রিকেট নয়, জীবনের যে কোনো বিষয় নিয়ে তিনি এই অর্থের বিনিময়ে কথা বলতে রাজি আছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি যদি আমার সঙ্গে স্কাইপ বা ভিডিও কলে ২০ মিনিট কথা বলতে পছন্দ করেন, আসুন। একের পর এক কথা বলব। ক্রিকেট, রাজনীতি, মানসিক স্বাস্থ্য, শচীন টেন্ডুলকার—সব নিয়ে কথা বলতে রাজি আছি। শুধু বিনিময়ে আমাকে কিছু পাউন্ড দেবেন।’
এই ডাকে অবিশ্বাস্য সাড়া পেলেন ও’ব্রায়েন। তার হাজার দুই পাউন্ড দরকার ছিল। এরই মধ্যে তিনি প্রায় ২ হাজার ২৫০ পাউন্ড পেয়ে গেছেন। আগামী ৫ এপ্রিল স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার তারিখও ঠিক করে ফেলেছেন।
আবেগে থরোথরো মানুষটি বলছিলেন, ‘আমি এ ধরনের কাজে (দান নেওয়ায়) অভ্যস্থ ছিলাম না। তাই কাজটা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু আজ যখন আমি ঘুম থেকে উঠলাম, অনুদানগুলো দেখে কেদে ফেলেছি। আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। সবাইকে।’
