অনিশ্চিত ক্রিকেটারদের রোজগার

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২১:২২

করোনা ভাইরাসের প্রবল সংক্রমণে সারা বিশ্বের প্রায় সব পেশার মানুষেরই রোজগারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা পড়েছেন এক অদ্ভুত সংকটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ক্রিকেটারদের এই বছরের আয়।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অন্তত এরকম ৬০ জন ক্রিকেটার আছেন, যারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ধরনের বেতনকাঠামোতে নেই। এই ক্রিকেটারদের আয়ের একমাত্র উত্স ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। সেই লিগ স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে নতুন আইনে এই ক্রিকেটাররা প্রায় কিছুই আয় করতে না পারার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের দলবদল হচ্ছিল ‘প্লেয়ার ড্রাফট’ পদ্ধতিতে। তাতে খেলোয়াড়দের সামনে পছন্দ অনুযায়ী ক্লাব বা পারিশ্রমিক বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না, কিন্তু একটা আয় নিশ্চিত ছিল। এবার ঢাকা লিগ আবার পুরোনো উন্মুক্ত দলবদল পদ্ধতিতে ফিরে গেছে। তাই শীর্ষ অনেক ক্রিকেটারের আয় বাড়ার কথা, কিন্তু এবার লিগে একটা শর্ত ছিল যে ক্লাবগুলো যে টাকায় চুক্তি করবে, সেটাকে মোট ম্যাচের সংখ্যা দিয়ে ভাগ দিয়ে পাওনা পরিশোধ করা হবে।

ঢাকা লিগের মধ্যেই জাতীয় দলের সফরসূচি থাকায় এই নিয়ম করা হয়েছিল। তাতে যে ক্রিকেটার যে কয়টা ম্যাচ খেলতেন, সে অনুযায়ী পাওনা পাওয়ার কথা। কিন্তু এর মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়ে যাওয়ায় একটি করে ম্যাচের পর স্থগিত হয়ে গেছে লিগ। আর সেটা শুরুরও কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তাই এই একটি ম্যাচের পাওনা নিয়েই এবার সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে।

এতে মূল বিপাকে পড়বেন কোনো রকম বেতনকাঠামোর বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা। বিসিবি ২০২০ সালের জন্য ১৭ জন জাতীয় ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিয়েছে। এর বাইরে ২০১৯-২০ মৌসুমের জন্য ৯০ জন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারকে বেতন দেওয়ার কথা তাদের। এই তালিকায় থাকা ক্রিকেটাররা মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন।

২০১৯-২০ সালের ঢাকা লিগে ২১৬ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন দলে চুক্তিভুক্ত হয়েছেন। এর একটা বড়ো অংশেরই বার্ষিক একমাত্র আয় এই লিগ থেকে পাওয়া টাকা। তারা এবার লিগের খেলা আর মাঠে না গড়ালে টাকা পাবেন না।

দেশের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার এবং প্রথম শ্রেণির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তুষার ইমরান এ ব্যাপারে বলছিলেন, ‘এই বৈশ্বিক মহামারির কারণে বিরাট একটা ‘যদি’ তৈরি হয়েছে। যদি এবার লিগটা না হয়, আমাদের সিংহভাগ খেলোয়াড়ের নিয়মিত আয় বলে কিছু থাকবে না। আমরা আশা করছি, বিসিবি এই অবস্থায় এগিয়ে আসবে এবং আমাদের সহায়তা করবে। আমরা অবশ্যই এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করব। কিন্তু এটা আসলেই একটা দুশ্চিন্তার ব্যাপার।’