আশুগঞ্জে ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল ইউনিট

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে নির্মাণকাজে স্থবিরতা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২১:৩৩

করোনা আতঙ্কে থমকে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের (পূর্ব) নির্মাণকাজ। এই ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ে উত্পাদনে আসা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এই বিদ্যুত্ ইউনিটের কিছু যন্ত্রাংশও চীন থেকে শিপমেন্ট করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ৭০ জন চীনা বিশেষজ্ঞ দেশ থেকে আসতে না পারায় আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের সাউথের সংস্কারকাজ শুরু করাও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুত্ কেন্দ্র কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন এবং চায়না ন্যাশনাল করপোরেশন ফর অভারসিস ইকোনোমিক্স কো-অপারেশন কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে ১৪৭৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটির ইপিসি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে গ্যাস টারবাইন থেকে ২৮৪ মেগাওয়াট, ২০২১ সালের জুন মাসে এই ইউনিটটি পুরোপুরি ৪০০ মেগাওয়াট উত্পাদনে আসার কথা রয়েছে। কিন্তু গত  ২০ মাসে এই প্রকল্পের মাত্র ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চীনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে।

বিদ্যুত্ কেন্দ্রের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৭০ জন চীনা বিশেষজ্ঞ তাদের দেশ থেকে কাজে ফিরে আসতে পারছে না আর বর্তমানে কর্মরত ২২৪ চীনা বিশেষজ্ঞও নিজ দেশে ফিরতে পারছে না। এই ২২৪ জন চীনা বিশেষজ্ঞও পরিবার পরিজনের চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। করোনা আতঙ্কে  স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না। এই প্রকল্পের কাজ কমপক্ষে ছয় মাস পিছিয়ে পড়তে পারে। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (পূর্ব) প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে এই নতুন ইউনিটের কাজ প্রায় ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে প্রকল্পের কাজে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। কিছু চীনা বিশেষজ্ঞ তাদের দেশ থেকে আসতে পারছে না। তাছাড়া প্রায় ১৫ ভাগ যন্ত্রাংশও শিপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তিন মাস অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছে। সুতরাং এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ তিন মাস পিছিয়ে পড়তে পারে এবং যথাসময়ে উত্পাদনে আসা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাজ্জাদুর রহমান জানান, করোনা আতঙ্কে এই প্রকল্পের কাজে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। চীনা বিশেষজ্ঞরাও আসতে পারছে না, তাছাড়া যন্ত্রাংশ আনা যাচ্ছে না। একারণে এই প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়তে পারে। বৈশ্বিক এই সমস্যার কারণে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের সাউথের সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ২৭ মার্চ থেকে এর সংস্কারকাজ শুরু করার কথা ছিল। উল্লেখ্য, গ্যাসভিত্তিক এই বিদ্যুত্ ইউনিটটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ১৫০০ কোটি টাকা। এই ইউনিটটি উত্পাদনে আসলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের উত্পাদনক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে দেশের বৃহত্ এই বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রের সচল আটটি ইউনিটে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে।